ব্যর্থ ‘সিংহম’ ম্যাজিক! ফলতার থমথমে পরিবেশে শান্তিশৃঙ্খলায় শেষ ভরসা কেন্দ্রীয় বাহিনী
দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রে নির্বাচনী ডামাডোল থামার লক্ষণ নেই। গত ২৯ এপ্রিলের ভোটে ব্যাপক অশান্তি ও কারচুপির পর এবার পুরো কেন্দ্রের ২৮৫টি বুথেই পুনর্নির্বাচনের নির্দেশ দিয়েছে কমিশন। এলাকার পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত যে, উত্তরপ্রদেশ থেকে আসা বিশেষ পুলিশ আধিকারিক বা প্রশাসনের কড়া নজরদারি—কোনো কিছুতেই কাজ হয়নি। বর্তমানে থমথমে ফলতায় শান্তি ফেরাতে একমাত্র ভরসা হিসেবে কাজ করছে কেন্দ্রীয় বাহিনী।
স্থানীয়দের বিক্ষোভ ও নিরাপত্তাহীনতার অভিযোগ
পুনর্নির্বাচন ঘোষণার পর থেকেই ফলতার সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ ও আতঙ্ক দুই-ই দেখা দিয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, ভোটের দিন তৃণমূল নেতৃত্বের পক্ষ থেকে ভোটারদের হুমকি দেওয়া হয়েছে এবং প্রতিবাদ করায় মারধরও করা হয়েছে। সাধারণ মানুষের সাফ কথা, যেখানে শান্তিপূর্ণভাবে একবারই ভোট হওয়ার কথা ছিল, সেখানে প্রশাসনিক ব্যর্থতার কারণে তাঁদের আবারও বুথমুখী হতে হচ্ছে। বিক্ষুব্ধ জনতা রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ জানিয়েছেন এবং তাঁদের দাবি—প্রশাসনের ‘সিংহম’ ভাবমূর্তির আধিকারিকদের চেয়ে কেন্দ্রীয় বাহিনীর কড়া টহলই তাঁদের কাছে বেশি নিরাপদ।
২১ মে পুনর্নির্বাচন ও নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা
আগামী ২১ মে ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রের ২৮৫টি বুথেই নতুন করে ভোটগ্রহণ হবে এবং ২৪ মে ফলাফল ঘোষণা করা হবে। এই ভোট প্রক্রিয়াকে নিষ্কণ্টক করতে কোমর বেঁধে নেমেছে নির্বাচন কমিশন। ইতিমধ্যেই এলাকায় আধা-সামরিক বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোতে চেকপোস্ট বসিয়ে তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী। রাজনৈতিক মহলের মতে, উন্নয়নের ইস্যু ছাপিয়ে এখন ফলতায় প্রধান বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে অবাধ ও শান্তিপূর্ণ ভোটদান নিশ্চিত করা। বিরোধীরা তৃণমূলের বিরুদ্ধে পেশিবল ব্যবহারের অভিযোগ তুললেও শাসক দল একে ষড়যন্ত্র বলে উড়িয়ে দিয়েছে। আপাতত কেন্দ্রীয় বাহিনীর বুটের শব্দই ফলতার থমথমে পরিবেশের একমাত্র নিয়ন্ত্রণরেখা।