তৃণমূলের অন্দরমহলে এক যুগের অবসান? ফলপ্রকাশের আগেই আলোচনার কেন্দ্রে সুব্রত বক্সীর ‘অনুপস্থিতি’
তৃণমূল কংগ্রেসের জন্মলগ্ন থেকে রাজ্য সভাপতির দায়িত্ব সামলানো সুব্রত বক্সী কি তবে ক্রমশ অপ্রাসঙ্গিক হয়ে পড়ছেন? বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার ঠিক আগের মুহূর্তে এই প্রশ্নই এখন রাজনৈতিক মহলে ঘোরাফেরা করছে। শনিবার দলের প্রার্থী ও এজেন্টদের নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ ভার্চুয়াল বৈঠকে ‘বক্সীদা’র অনুপস্থিতি সেই জল্পনাকে আরও উসকে দিয়েছে।
ক্ষমতা খর্ব হওয়ার ইঙ্গিত ও প্রার্থীতালিকা
দ্য ওয়ালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সুব্রত বক্সীর ক্ষমতা খর্ব হওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল বিধানসভা নির্বাচনের প্রার্থীতালিকা ঘোষণার সময় থেকেই। কালীঘাটে তালিকা প্রকাশের দিন দেখা গিয়েছিল, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তালিকার একাংশ ঘোষণার পর বাকিটা অভিষেকের হাতে তুলে দেন। সেই সময় রাজ্য সভাপতি হিসেবে বক্সীবাবুর ভূমিকা ছিল কেবলই আনুষ্ঠানিক। এমনকি তাঁর সুপারিশ করা কোনো নাম তালিকায় জায়গা পায়নি, এমনকি তাঁর ঘনিষ্ঠ অনুগত হিসেবে পরিচিত জয়প্রকাশ মজুমদারকেও তিনি টিকিট পাইয়ে দিতে পারেননি।
বৈঠকের ফ্রেমে অনুপস্থিতি ও শারীরিক অবস্থা
শনিবারের বৈঠকে যেখানে নীল ব্যাকগ্রাউন্ডের সামনে মমতা ও অভিষেককে একসাথে দেখা গিয়েছে, সেখানে রাজ্য সভাপতির কোনো আসন ছিল না। তাঁর ঘনিষ্ঠ মহল সূত্রে দাবি করা হচ্ছে, সুব্রত বক্সীর শরীর এবং মন—কোনোটিই ভালো নেই। রাজ্যসভার পুনর্মনোনয়ন না চাওয়া এবং বালিগঞ্জ আসনে প্রার্থী হতে অস্বীকার করার নেপথ্যেও তাঁর অভিমান বা দলের ‘বৃদ্ধতন্ত্র’ থেকে সরে আসার ইঙ্গিত দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
তৃণমূলের পালাবদল ও অভিষেক যুগ
তৃণমূলের কর্তৃত্ব যে ক্রমশ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত থেকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাতে চলে যাচ্ছে, সুব্রত বক্সীর এই ‘ফ্রেমের বাইরে’ চলে যাওয়া তারই স্পষ্ট প্রতিফলন বলে মনে করা হচ্ছে। দলের সংগঠনের রাশ এখন পুরোপুরি অভিষেকের হাতে। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, রাজ্য সভাপতি পদে বক্সীবাবুর মেয়াদ ফুরানো এখন কেবল সময়ের অপেক্ষা। তৃণমূলের আদি ও নব্য প্রজন্মের এই সন্ধিক্ষণে সুব্রত বক্সীর নীরব প্রস্থান এক দীর্ঘ রাজনৈতিক ইতিহাসের সমাপ্তির ইঙ্গিত দিচ্ছে।