মাঝরাতে প্রেমিকার সঙ্গে দেখা করতে যাওয়াই কাল, গাছে বেঁধে যুবকের ওপর নির্মম নির্যাতন!
বার্তা ডেস্কঃ
প্রেমিকার ডাকে সাড়া দিয়ে গভীর রাতে দেখা করতে গিয়েছিলেন। কিন্তু সেই দেখাই যে জীবনের শেষ পরিণতি ডেকে আনবে, তা হয়তো ঘুণাক্ষরেও ভাবতে পারেননি তিনি। গুজরাটের মেহসানা জেলার খেরালু তালুকের থাংনা গ্রামে এক ৩১ বছর বয়সি যুবককে গাছে বেঁধে পিটিয়ে খুন করার অভিযোগ উঠল প্রেমিকার পরিবারের বিরুদ্ধে। নিহত যুবকের নাম রঞ্জিৎজি ঠাকোর। এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে গোটা এলাকায়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, পাটান জেলার সিদ্ধপুর তালুকের ভাগারোল গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন রঞ্জিৎজি। তিনি সিদ্ধপুরের একটি বেসরকারি আর্থিক সংস্থায় ক্রেডিট ম্যানেজার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। ২০২৪ সালে তাঁর বিবাহবিচ্ছেদের পর গত দু’বছর ধরে থাংনা গ্রামের এক তরুণীর সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন তিনি। এই সম্পর্কের কথা যুবকের পরিবারের সদস্যরাও জানতেন।
মঙ্গলবার সকালে মোটরবাইক নিয়ে কর্মস্থলের উদ্দেশে বাড়ি থেকে বেরিয়েছিলেন রঞ্জিৎজি। রাত পৌনে বারোটা নাগাদ মায়ের সঙ্গে ফোনে কথাও হয় তাঁর। সে সময় বাড়ি ফিরতে কিছুটা দেরি হবে বলে জানিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু শেষ রাতের দিকে প্রায় সাড়ে তিনটে নাগাদ এক আত্মীয়ের ফোন পেয়ে আঁতকে ওঠেন পরিবারের সদস্যরা। জানতে পারেন, থাংনা গ্রামে প্রেমিকার পরিবারের হাতে ধরা পড়ে গিয়েছেন রঞ্জিৎজি।
অভিযোগ, প্রেমিকার মা, ভাই, কাকা এবং পরিবারের আরও এক সদস্য মিলে রঞ্জিৎজিকে একটি তেঁতুল গাছের সঙ্গে দড়ি দিয়ে হাত-পা বেঁধে ফেলেন। এরপর লাঠি দিয়ে তাঁর ওপর নির্মম অত্যাচার চালানো হয়। বেধড়ক মারধরে জ্ঞান হারিয়ে নিস্তেজ হয়ে পড়লে তাঁকে একটি লোহার খাটিয়ায় ফেলে রাখা হয়। সেখানেই অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ ও চোটের কারণে তাঁর মৃত্যু হয়।
পরদিন সকালে ঘটনাস্থলে পৌঁছে গাছের তলায় একটি খাটিয়ায় বস্তা চাপা দেওয়া অবস্থায় যুবকের নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখেন তাঁর পরিবারের লোকজন। মৃতের বাবার দাবি, ছেলের পিঠ, ঘাড়, কোমর ও পায়ে অসংখ্য আঘাতের চিহ্ন রয়েছে এবং তাঁর গলায় থাকা প্রায় দেড় ভরি ওজনের সোনার চেনটিও উধাও। পুলিশ ইতিমধ্যেই দেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তে পাঠিয়েছে এবং ঘটনায় যুক্ত থাকার অভিযোগে চারজনকে আটক করে জোরদার জিজ্ঞাসাবাদ চালাচ্ছে।