দুর্ভেদ্য নিরাপত্তা ও কড়া নিয়মে ভোটগণনা আজ, প্রস্তুত রাজ্য জুড়ে ২৯৩টি কেন্দ্র
রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার প্রাক্কালে গোটা বাংলাকে এক দুর্ভেদ্য নিরাপত্তা বলয়ে মুড়ে ফেলল নির্বাচন কমিশন। সোমবার সকাল ৮টা থেকে রাজ্যের ২৯৩টি গণনাকেন্দ্রে ভোটগণনা শুরু হবে। কোনো রকম বিশৃঙ্খলা এড়াতে এবার ত্রিস্তরীয় নিরাপত্তা বলয় ও কড়া বিধি নিষেধ জারি করা হয়েছে। কমিশনের স্পষ্ট বার্তা, নিরাপত্তা ভাঙার কোনো ঘটনা ঘটলে তার দায় সরাসরি কেন্দ্রীয় বাহিনীকেও নিতে হবে।
ত্রিস্তরীয় নিরাপত্তা ও নজরদারি
কমিশন সূত্রে খবর, গণনা প্রক্রিয়ার জন্য রাজ্যে মোট ৪৫৯টি কাউন্টিং হল তৈরি করা হয়েছে। নিরাপত্তার দায়িত্বে মোতায়েন থাকছে রাজ্য পুলিশ, রাজ্য সশস্ত্র পুলিশ এবং ২০০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী (CAPF)। প্রতিটি হলে একজন করে কাউন্টিং অবজার্ভার থাকছেন এবং সব মিলিয়ে ৫৩৯ জন অবজার্ভার গোটা প্রক্রিয়ার ওপর নজর রাখবেন। মেটিয়াব্রুজ, সপ্তগ্রাম এবং বীজপুর কেন্দ্রে ১০ দফায় গণনা সম্পন্ন করার বিশেষ পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
এজেন্ট ও কর্মকর্তাদের জন্য কঠোর নির্দেশ
গণনা কেন্দ্রে স্বচ্ছতা বজায় রাখতে কমিশন একাধিক কঠোর নিয়ম কার্যকর করেছে:
- নিরাপত্তা বলয়: প্রথম, দ্বিতীয় বা তৃতীয় নিরাপত্তা বলয় ভেঙে অনুপ্রবেশ ঘটলে কেন্দ্রীয় বাহিনীকে জবাবদিহি করতে হবে।
- এজেন্টের অবস্থান: গণনা শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোনো এজেন্ট কেন্দ্র ছাড়তে পারবেন না। বিশেষ প্রয়োজনে রিটার্নিং অফিসারের লিখিত অনুমতি বাধ্যতামূলক।
- তথ্য প্রকাশ: প্রতিটি রাউন্ডের গণনা সম্পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত কোনো ডেটা এন্ট্রি করা যাবে না।
- আইনি কড়াকড়ি: আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় ১৬৩ ধারা জারি থাকবে, ফলে গণনাকেন্দ্রের আশেপাশে কোনো জমায়েত করা যাবে না।
বিজয় মিছিল ও বিদ্যুৎ বিভ্রাটে নিষেধাজ্ঞা
ভোট পরবর্তী কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা রুখতে সোমবার কোনো বিজয় মিছিলের অনুমতি দেওয়া হয়নি। কোনো দল উদযাপন করতে চাইলে তাকে আগেভাগেই পুলিশের বিশেষ অনুমতি নিতে হবে। এছাড়া, গণনার সময় রাজনৈতিক দলগুলির আশঙ্কা অনুযায়ী লোডশেডিং এড়াতে বিদ্যুৎ দপ্তরের সঙ্গে সমন্বয় রেখে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ পরিষেবা নিশ্চিত করা হয়েছে।
১৫টি বুথে পুনর্নির্বাচন এবং বেশ কয়েকজন আধিকারিকের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক পদক্ষেপের সুপারিশের পর কমিশন এবার গণনা প্রক্রিয়াকে সম্পূর্ণ ত্রুটিমুক্ত করতে মরিয়া। প্রশাসনের উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের মতে, প্রস্ততি সম্পূর্ণ এবং নিয়ম মেনেই প্রতিটি ধাপ সম্পন্ন হবে। এখন শুধু অপেক্ষা সকাল ৮টার, যখন ইভিএম খুলে নির্ধারিত হবে বাংলার আগামীর ভাগ্য।