‘ভোট লুঠ’ রুখতে বিরোধীদের একজোট হওয়ার ডাক, গণনার আগে তৃণমূলকে তীব্র আক্রমণ শমীকের

রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার কয়েক ঘণ্টা আগে রাজনৈতিক পারদ চড়ালেন পশ্চিমবঙ্গ বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। রবিবার এক সাক্ষাৎকারে তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে ‘ভোট লুঠ’ এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়া ব্যাহত করার চেষ্টার অভিযোগ তুলে সমস্ত গণতান্ত্রিক শক্তিকে একজোট হওয়ার আহ্বান জানান তিনি। তাঁর দাবি, আইনি লড়াইয়ে ব্যর্থ হয়ে শাসকদল এখন গণনাকেন্দ্রে অশান্তি তৈরির পরিকল্পনা করছে।

তৃণমূলকে ‘শান্তিপূর্ণ’ জবাবের হুঁশিয়ারি

শমীক ভট্টাচার্য অভিযোগ করেন, তৃণমূল সুপ্রিম কোর্টে গিয়েও কোনো সুবিধা করতে পারেনি, কারণ আদালত তাদের ‘ভোট লুঠের অধিকার’ দেয়নি। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাম্প্রতিক কিছু মন্তব্যের প্রেক্ষিতে তিনি বলেন, বিজেপি এর কড়া কিন্তু শান্তিপূর্ণ জবাব দেবে। তাঁর কথায়, “ওরা পতাকার সঙ্গে লাঠি আনুক, আমরা ঠান্ডা শরবত নিয়ে যাব। জোরে ঝটকা লাগবে, কিন্তু আস্তে করে।” বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, গণনাকেন্দ্রে ছোটখাটো গন্ডগোল করার চেষ্টা হলেও সাধারণ মানুষ ও কর্মীরা তা প্রতিহত করতে প্রস্তুত।

কমিশনের প্রস্তুতি ও মেখলিগঞ্জ মডেল

বিরোধীদের এই আশঙ্কার মাঝেই রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ কুমার আগরওয়াল আশ্বস্ত করেছেন যে, ৪ মে-র গণনা সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ ও স্বচ্ছভাবে সম্পন্ন হবে। তিনি জানান, কোথাও কোনো অশান্তির অবকাশ রাখা হয়নি এবং কমিশন “অবাধ ও সুষ্ঠু” প্রক্রিয়ার জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত। বিশেষ করে কোচবিহারের মেখলিগঞ্জ বিধানসভা কেন্দ্রের মতো সংবেদনশীল এলাকাগুলিতেও গণনার সমস্ত প্রস্তুতি চূড়ান্ত করা হয়েছে বলে এক্স (X) বার্তায় জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন।

সাফল্যের বিষয়ে আত্মবিশ্বাসী গেরুয়া শিবির

গণনার আগের দিন শমীক ভট্টাচার্যের এই আক্রমণাত্মক ভঙ্গি স্পষ্ট করে দিচ্ছে যে, বিজেপি এবার গণনাকেন্দ্রে এক ইঞ্চি জমিও ছাড়তে নারাজ। শমীকবাবুর মতে, তৃণমূলের দুর্নীতির বিরুদ্ধে জনমত ইতিমধ্যে সংগঠিত হয়ে গেছে এবং সোমবারের ফলাফল তা প্রমাণ করে দেবে। শাসকদলের কোনো প্ররোচনায় পা না দিয়ে বিজেপি কর্মীদের সংযত ও সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। সব মিলিয়ে, গণনার আগের রাতে শাসক ও বিরোধী শিবিরের এই বাগযুদ্ধ বাংলার নির্বাচনী উত্তাপকে অন্য মাত্রায় নিয়ে গেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *