প্রত্যাবর্তন না পরিবর্তন? মহাগণনার দোরগোড়ায় বাংলা, ভাগ্যপরীক্ষায় মমতা-শুভেন্দু

আজ ৪ মে, ২০২৬। সারা ভারতের নজর আজ পশ্চিমবঙ্গের দিকে। পরীক্ষার ফলপ্রকাশের দিন। সকাল ৮টা থেকে জেলায় জেলায় শুরু হচ্ছে বিধানসভা নির্বাচনের ভোটগণনা। মোটামুটি দুপুরের মধ্যেই স্পষ্ট হয়ে যাবে নবান্ন কি ফের মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দখলেই থাকছে, নাকি দেড় দশক পর রাজ্যে ফের ‘পরিবর্তন’ আসবে। নীলবাড়ির দখল কার হাতে যাবে, তা নিয়ে স্নায়ুর লড়াই এখন তুঙ্গে।

অঙ্ক ও ম্যাজিক ফিগার

রাজ্যে মোট আসন ২৯৪টি হলেও আজ গণনা হবে ২৯৩টি কেন্দ্রে। দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতা আসনে অনিয়মের অভিযোগে নির্বাচন বাতিল হওয়ায় সেখানে আগামী ২১ মে ফের ভোট হবে। ফলে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ম্যাজিক ফিগার বর্তমানে ১৪৮ থেকে কমে দাঁড়িয়েছে ১৪৭-এ। ফলতার ফলাফল জানা যাবে ২৪ মে, তবে তার আগেই রাজ্যের ভবিষ্যৎ আজ স্পষ্ট হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা প্রবল।

দুর্গ রক্ষা বনাম পরিবর্তনের ঢেউ

নির্বাচনের প্রথম দফায় ভোট হয়েছিল বিজেপির শক্ত ঘাঁটি বলে পরিচিত জেলাগুলোতে। দ্বিতীয় দফায় ভোট হয়েছে তৃণমূলের গড় দক্ষিণবঙ্গে। কে কার দুর্গে ফাটল ধরাতে পারল, তা-ই হবে আজকের প্রধান নির্ণায়ক। বুথফেরত সমীক্ষায় বেশির ভাগ সংস্থা বিজেপির জয়ের ইঙ্গিত দিলেও তৃণমূল তা উড়িয়ে দিয়েছে। তাদের দাবি, ২০২১ বা ২০২৪-এর মতো এবারও সমীক্ষা ভুল প্রমাণিত হবে এবং ঘাসফুল শিবিরেরই প্রত্যাবর্তন ঘটবে।

নজরে ভবানীপুর: এ বারের ‘নন্দীগ্রাম’

পুরো রাজ্যের নজর আজ দক্ষিণ কলকাতার সাখাওয়াত মেমোরিয়াল স্কুলের দিকে। এখানেই হবে ভবানীপুর কেন্দ্রের গণনা। ২০২১-এ লড়াই ছিল মুখ্যমন্ত্রী বনাম বিজেপি নেতার, কিন্তু এবার ভবানীপুরে লড়াই হচ্ছে ‘মুখ্যমন্ত্রী বনাম বিরোধী দলনেতা’র। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও শুভেন্দু অধিকারীর এই সম্মুখসমর বাংলার রাজনৈতিক ইতিহাসে নজিরবিহীন। শুভেন্দু ইতিমধ্যেই ২০ রাউন্ডের জয়ের অঙ্ক কষে রেখেছেন, অন্যদিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আত্মবিশ্বাসও তুঙ্গে।

শান্তি ও উত্তেজনার টানাপোড়েন

ফলাফল ঘোষণার আগে জনমানসে ভোট-পরবর্তী হিংসা নিয়ে প্রবল উদ্বেগ রয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর ‘হিসাব করার হুঁশিয়ারি’ এবং অমিত শাহের ‘উল্টো করে ঝুলিয়ে দেওয়ার’ বার্তার পাল্টায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘রবীন্দ্রসঙ্গীতের সঙ্গে ডিজে’ বাজানোর মন্তব্য রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়িয়ে দিয়েছে। যদিও ফল ঘোষণার আগের দিন বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য কর্মীদের শান্ত থাকার আবেদন জানিয়েছেন এবং তৃণমূল মুখপাত্র কুণাল ঘোষও শান্তির বার্তা দিয়েছেন। তবে দুপুরের পর আবির কোন রঙের উড়বে, তার ওপর নির্ভর করছে পরিস্থিতি।

নজরে বাকি ৪ রাজ্য ও বামেদের অস্তিত্ব

পশ্চিমবঙ্গের পাশাপাশি আজ অসম, তামিলনাড়ু, কেরালা এবং পুদুচেরিরও ভাগ্য নির্ধারিত হচ্ছে। বিশেষ করে নজর রয়েছে কেরালার দিকে। সেখানে যদি এলডিএফ সরকারের পতন ঘটে, তবে ভারতের মানচিত্র থেকে বাম শাসন প্রায় পাঁচ দশক পর মুছে যাবে। জাতীয় রাজনীতিতে বামেদের টিকে থাকার লড়াই আজ চরম পরীক্ষার মুখে।

এপ্রিলের কড়া রোদে যে ভোটগ্রহণ হয়েছিল, তার চূড়ান্ত ফলাফল আজ বিকেলে বাংলার নতুন রাজনৈতিক মানচিত্র তৈরি করবে। নবান্নের ১৪ তলা না কি লালদিঘির লালবাড়ি—ক্ষমতার অলিন্দে কারা ফিরছে, তার উত্তর মিলবে আর কয়েক ঘণ্টা পরেই।

প্রতিবেদক: স্বাধীন মানব দাস।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *