পানের বরজে ঘেরা ৩০০ বছরের রহস্যময় জোড়া কালী, জানলে চমকে উঠবেন!
বার্তা ডেস্কঃ
পশুবলিহীন অভিনব প্রথায় জীবন্ত পাঁঠার সমারোহ, পটাশপুরের জোড়া কালীর মাহাত্ম্য
বাংলার লোকসংস্কৃতি ও বিশ্বাসের এক অনন্য মিশেল বহন করছে পটাশপুরের পালপাড়ার জোড়া কালী মন্দির। প্রায় তিনশো বছর আগে কলেরা ও বসন্ত মহামারীর প্রকোপ থেকে গ্রামকে বাঁচাতে স্বপ্নাদেশ পেয়ে এই পুজোর সূচনা হয়েছিল। আজও সেই প্রথা মেনে বড় ও ছোট—দুই বোন হিসেবে পূজিতা হন দুই দেবী। আধুনিকতার চাকচিক্যের ভিড়ে আজও এখানকার পুজো তার সাবেকিয়ানা ও ডাকের সাজের ঐতিহ্যকে অটুট রেখেছে।
বলি প্রথার বদলে মানবিকতার অনন্য উদাহরণ
এই পুজোর সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য হলো এর রক্তক্ষয়হীন মানত প্রথা। বহুকাল আগেই এখানে পশুবলি নিষিদ্ধ করা হয়েছে। বদলে ভক্তদের মনোবাঞ্ছা পূর্ণ হলে তারা জীবন্ত পাঁঠা মায়ের চরণে উৎসর্গ করেন। মন্ত্রপূত জল ছিটিয়ে সেই পাঁঠাকে ‘মায়ের পাঁঠা’ হিসেবে চিহ্নিত করে স্বাধীনভাবে ছেড়ে দেওয়া হয়। এই প্রাণীগুলো গোটা গ্রামে মুক্ত হয়ে ঘুরে বেড়ায়। এমনকি ফসলের ক্ষতি করলেও গ্রামবাসীরা তাদের ভক্তিভরে ক্ষমা করে দেন, যা এই অঞ্চলের মানুষের মানবিক ও ধার্মিক চেতনারই বহিঃপ্রকাশ।
লোকবিশ্বাসের টানে সমাগম
গ্রামবাসীর বিশ্বাস, বড় কালী গ্রামকে বহিঃশত্রু ও বিপদ থেকে রক্ষা করেন, আর ছোট কালী পরিবার ও সন্তানদের কল্যাণে সদা জাগ্রত। এই বিশ্বাসকে কেন্দ্র করেই প্রতি বছর কালীপুজোর রাতে পালপাড়ায় আশেপাশের অন্তত দশ-বারোটি গ্রামের মানুষের ঢল নামে। শহরকেন্দ্রিক থিমের পুজোর বাইরে বাংলার চিরায়ত ভক্তি ও লোকবিশ্বাসের স্বাদ নিতে পটাশপুরের এই গ্রামটি আজ এক অনন্য গন্তব্যে পরিণত হয়েছে।
এক ঝলকে
- উৎপত্তিকথা: তিনশো বছর আগে মহামারী থেকে মুক্তি পেতে স্বপ্নাদেশ পেয়ে জোড়া কালীর পূজা শুরু হয়।
- বিশেষত্ব: মণ্ডপে দুই বোন হিসেবে বড় ও ছোট কালীর একত্রে পূজা করা হয়।
- মানত প্রথা: পশুবলি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ; মানত করা পাঁঠাকে মায়ের নামে উৎসর্গ করে গ্রামে মুক্ত ছেড়ে দেওয়া হয়।
- জনশ্রুতি: প্রায় ৫০টিরও বেশি ‘মায়ের পাঁঠা’ এখন পুরো গ্রাম জুড়ে স্বাধীনভাবে বিচরণ করে।