অর্থের অভাবে থমকে রক্সি হলের সংস্কার, কী হবে এই ঐতিহ্যবাহী প্রেক্ষাগৃহের ভবিষ্যৎ?

বার্তা ডেস্কঃ

 

অব্যাহত অর্থসংকটে বন্ধ রক্সি প্রেক্ষাগৃহের সংস্কার কাজ

নিজস্ব প্রতিবেদক: অর্থ বরাদ্দ না মেলায় প্রায় দেড় মাস ধরে বন্ধ রয়েছে ঐতিহাসিক রক্সি প্রেক্ষাগৃহের সংস্কার কাজ। পুরসভার অন্দরে প্রশাসনিক জটিলতা ও ফাইল আটকে থাকার জেরে ঠিকাদাররা তাঁদের পাওনা পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ উঠেছে। পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে আজ, বুধবার একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।

ঐতিহ্যবাহী রক্সিকে আধুনিক প্রেক্ষাগৃহে রূপান্তরিত করার লক্ষ্যে পুরসভার সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে কাজ শুরু করেছিল আবাসন নির্মাণকারী সংস্থাগুলোর সংগঠন ‘ক্রেডাই’ (CREDAI)। প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী, এই প্রকল্পের জন্য ১০ থেকে ১১ কোটি টাকা খরচের হিসাব ধরা হয়েছিল। এর মধ্যে আধুনিকীকরণের জন্য ৫ কোটি টাকা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেয় ক্রেডাই। বাকি পরিকাঠামোগত উন্নয়নের দায়িত্ব নেয় পুরসভা।

পুরসভার দায়িত্বপ্রাপ্ত ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের জন্য ৪ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছিল, যার মধ্যে ৩ কোটি টাকা ইতিমধ্যেই ব্যয়িত হয়েছে। বাকি ১ কোটি টাকার কাজ শেষ পর্যায়ে থাকলেও নতুন পুর কর্তৃপক্ষের অসহযোগিতায় সেই টাকা আটকে রয়েছে বলে অভিযোগ। অন্যদিকে, আলোক বিভাগের (লাইটিং ডিপার্টমেন্ট) হাতে থাকা সাড়ে তিন কোটি টাকার কাজও অর্থসংকটের কারণে থমকে গেছে।

ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের কর্মকর্তাদের দাবি, প্রেক্ষাগৃহের সম্মুখভাগ ও অভ্যন্তরীণ সংস্কারের কাজ অনেকাংশেই সম্পন্ন হয়েছে। ক্রেডাইও নিজস্ব অংশের কাজ অনেকটা এগিয়ে রেখেছিল। কিন্তু আলোক বিভাগের কাজের সঙ্গে সমন্বয় করতে না পারায় পুরো প্রক্রিয়াটি এখন স্তব্ধ। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক আধিকারিক জানিয়েছেন, শীর্ষ কর্তৃপক্ষকে বারবার জানিয়েও কোনো সুরাহা মেলেনি। পরিস্থিতি জটিল হওয়ায় বাধ্য হয়ে কাজ বন্ধ রাখতে হয়েছে।

সূত্রের খবর, পরিস্থিতি পর্যালোচনায় কয়েক সপ্তাহ আগে পুরসভার প্রশাসক স্মিতা পান্ডে সরেজমিনে রক্সি পরিদর্শনে যান। তবে সেই পরিদর্শনের পরেও বকেয়া অর্থ ছাড় বা নতুন কাজের অনুমোদন মেলেনি। বিনিয়োগ করেও কাজ শেষ করতে না পারায় চূড়ান্ত বিপাকে পড়েছে ক্রেডাই। এই অচলাবস্থা কাটিয়ে কাজ দ্রুত শুরু করা সম্ভব হবে কি না, তা আজকের বৈঠকের ফলাফলের ওপরই নির্ভর করছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *