বদলে যাবে নবান্ন! ৩৩% মহিলা সংরক্ষণ ও ইউসিসি চালুর মেগা প্ল্যান নিয়ে ময়দানে বিজেপি
২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে পশ্চিমবঙ্গের প্রশাসনিক কাঠামোয় আমূল পরিবর্তনের ব্লু-প্রিন্ট সাজিয়েছে বিজেপি। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের উন্মোচিত ‘সংকল্প পত্র’-এ রাজ্যের বর্তমান প্রশাসনিক ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজানোর একগুচ্ছ উচ্চাকাঙ্ক্ষী প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেসের দীর্ঘ শাসনকালকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে বিজেপি মূলত স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং প্রযুক্তিনির্ভর প্রশাসন গড়ার ওপর জোর দিচ্ছে।
দুর্নীতি দমন ও শ্বেতপত্র প্রকাশের অঙ্গীকার
বিজেপির প্রস্তাবিত প্রশাসনিক সংস্কারের কেন্দ্রে রয়েছে দুর্নীতির বিরুদ্ধে আপসহীন অবস্থান। ক্ষমতায় আসার পর গত ১৫ বছরের শাসনের আর্থিক খতিয়ান খতিয়ে দেখতে একটি ‘শ্বেতপত্র’ প্রকাশের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে দলটি। বিশেষ করে কয়লা, বালু ও পাথর মাফিয়াদের দাপট রুখতে ১০০ দিনের একটি সময়বদ্ধ কর্মপরিকল্পনা গ্রহণের কথা বলা হয়েছে। এছাড়া, রাজনৈতিক হিংসা ও দুর্নীতির তদন্তে সুপ্রিম কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির নেতৃত্বে বিশেষ কমিশন গঠনের মাধ্যমে দোষীদের কঠোর শাস্তির আশ্বাস দেওয়া হয়েছে, যা রাজ্যে এক নতুন প্রশাসনিক সংস্কৃতির ইঙ্গিত দিচ্ছে।
সরকারি কর্মীদের পাওনা ও নিয়োগে স্বচ্ছতা
রাজ্যের লক্ষ লক্ষ সরকারি কর্মচারীদের মন জয়ে বড়সড় চমক দিয়েছে গেরুয়া শিবির। সরকার গঠনের মাত্র ৪৫ দিনের মধ্যে বকেয়া মহার্ঘ ভাতা (DA) মেটানো এবং সপ্তম বেতন কমিশন কার্যকর করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। প্রশাসনিক গতিশীলতা ফেরাতে শূন্যপদগুলোতে স্বচ্ছ ও মেধাভিত্তিক নিয়োগের পাশাপাশি সরকারি চাকরিতে নারীদের জন্য ৩৩ শতাংশ সংরক্ষণের ঘোষণা করা হয়েছে। এই পদক্ষেপ সফল হলে রাজ্যের কর্মসংস্থান ও প্রশাসনিক দক্ষতায় বড় ধরনের ইতিবাচক প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
সীমান্ত সুরক্ষা ও আইনি সংস্কার
জাতীয় নিরাপত্তা এবং আইন-শৃঙ্খলার আধুনিকীকরণকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে বিজেপি। ক্ষমতায় আসার ছয় মাসের মধ্যে রাজ্যে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি (UCC) কার্যকর করা এবং ২০০ দিনের মধ্যে সরকারি জমি অনুপ্রবেশকারী মুক্ত করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার কাজ দ্রুত সম্পন্ন করার মাধ্যমে রাজ্যের নিরাপত্তা বেষ্টনীকে আরও শক্তিশালী করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। শিল্পক্ষেত্রে বিনিয়োগ টানতে ‘সিঙ্গেল উইন্ডো ক্লিয়ারেন্স’ চালুর মাধ্যমে লাইসেন্স রাজ অবসানের যে বার্তা দেওয়া হয়েছে, তা রাজ্যের ভঙ্গুর অর্থনীতিকে চাঙ্গা করার একটি কৌশল হিসেবেই দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।