বাংলার মসনদে এবার পদ্ম-বিপ্লব, শ্যামাপ্রসাদের রাজ্যে ইতিহাস গড়ল বিজেপি
পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক ইতিহাসে সূচিত হলো এক নতুন অধ্যায়। দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বড়সড় পটপরিবর্তনের পথে বাংলা। প্রাথমিক ট্রেন্ড এবং গণনার ফল অনুযায়ী, তৃণমূল কংগ্রেসের একাধিপত্যকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে প্রথমবার নবান্ন দখলের ম্যাজিক ফিগার স্পর্শ করার পথে ভারতীয় জনতা পার্টি। জনসঙ্ঘের প্রতিষ্ঠাতা শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের রাজ্যে এই জয়কে মোদী-শাহ জুটির দীর্ঘ লড়াইয়ের ‘স্বপ্নপূরণ’ হিসেবেই দেখছে রাজনৈতিক মহল।
পরিবর্তনের জোয়ার ও মেরুকরণের রাজনীতি
২০২১ সালের নির্বাচনে ব্যর্থতার পর থেকে ২০২৬-এর এই মহারণ ছিল বিজেপির কাছে অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই। অন্যদিকে, চতুর্থবার ক্ষমতায় ফিরতে মরিয়া ছিল তৃণমূল কংগ্রেস। তবে এবারের নির্বাচনে দুর্নীতির অভিযোগ বনাম জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের লড়াইয়ে পাল্লা ভারী হয়েছে পরিবর্তনের ডাকের দিকেই। বিশেষ করে গ্রামীণ ও শহরতলীর ভোটব্যাঙ্কে বিজেপির থাবা শাসকদলের ভিত নাড়িয়ে দিয়েছে। দুর্নীতি ইস্যু এবং কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের লাগাতার প্রচার মানুষের মনে কতটা প্রভাব ফেলেছে, গণনার ফল তারই প্রমাণ দিচ্ছে।
ফলাফলের প্রভাব ও আগামীর বাংলা
রাজ্যের ২৯৪টি আসনের মধ্যে ফলতা বাদে ২৯৩টি আসনের প্রবণতা স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, বাংলার সাধারণ মানুষ এবার বিকল্প শক্তিতেই আস্থা রেখেছেন। বাম-কংগ্রেস-আইএসএফ জোট কিছু পকেটে ভোট কাটলেও তা তৃণমূলের জয়ের পথ প্রশস্ত করতে পারেনি; বরং সংখ্যালঘু ভোট ভাগাভাগি শাসকদলের জন্য বড় ধাক্কা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এই জয়ের ফলে দিল্লির সাথে কলকাতার প্রশাসনিক সমীকরণ আমূল বদলে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। ডবল ইঞ্জিন সরকারের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতায় আসা বিজেপির সামনে এখন বড় চ্যালেঞ্জ হলো রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ এবং থমকে থাকা শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থানকে গতিশীল করা। ২১ মে ফলতা কেন্দ্রের পুনঃনির্বাচন বাকি থাকলেও, সরকার গঠনের দৌড়ে বিজেপি এখন অনেকটাই ধরাছোঁয়ার বাইরে। এই জয় কেবল ক্ষমতা বদল নয়, বরং বাংলার রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে এক বিরাট মোড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।