সমবায় ব্যবস্থায় বড় বদল, অনলাইন রেজিস্ট্রেশনে খুলছে নতুন দিগন্ত!
বার্তা ডেস্কঃ
সমবায় ব্যবস্থায় আধুনিকায়ন ও স্বচ্ছতা আনতে আইনি সংশোধনের পথে রাজ্য
নিজস্ব প্রতিবেদন: রাজ্যের সমবায় ব্যবস্থাকে আরও গতিশীল, প্রযুক্তি নির্ভর এবং স্বচ্ছ করে তুলতে বিশেষ উদ্যোগ নিল রাজ্য সরকার। সমবায় আইনে আমূল পরিবর্তনের লক্ষ্যে তোড়জোড় শুরু করেছে সমবায় দপ্তর। যুবসমাজের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি, ডিজিটাল ব্যবস্থাপনা এবং অডিট ব্যবস্থা জোরদার করা এই সংশোধনীর মূল লক্ষ্য বলে জানা গেছে।
দপ্তর সূত্রে খবর, সমবায় আন্দোলনের সঙ্গে যুবসমাজকে যুক্ত করতে নতুন নীতি নির্ধারণ করা হচ্ছে। এর ফলে তরুণ প্রজন্ম কেবল সমবায়ের সদস্য হিসেবেই নয়, বরং পরিচালন পর্ষদ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। একই সঙ্গে, সমবায় ব্যাংকের পরিচালন ব্যবস্থা ও কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাংকের (আরবিআই) নির্দেশিকা অনুযায়ী সামঞ্জস্য আনার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
বর্তমান কাগজ-কলম নির্ভর ব্যবস্থার পরিবর্তে সমবায়ের অনলাইন রেজিস্ট্রেশন চালু করা হচ্ছে। এতে কাজের স্বচ্ছতা বৃদ্ধির পাশাপাশি সমবায়গুলোর প্রতি মানুষের আগ্রহ বাড়বে বলে মনে করছে আমলা মহল। এছাড়া প্রাথমিক সমবায়গুলোকে বহুমুখী প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, যাতে তাদের আয়ের উৎস বৃদ্ধি পায় এবং গ্রামীণ অর্থনীতিতে তারা আরও জোরালো ভূমিকা রাখতে পারে।
রাজ্যের সমবায়মন্ত্রী অশোক কীর্তনিয়া বলেন, ‘‘কেন্দ্রীয় প্রকল্পের সুবিধাগুলো যাতে তৃণমূল স্তরের মানুষের কাছে দ্রুত পৌঁছে দেওয়া যায়, তার জন্যই সমবায় নীতিতে পরিবর্তন আনা হচ্ছে। কেন্দ্রের নীতির সঙ্গে সাযুজ্য রেখে রাজ্যের সমবায় আইনের সংশোধনী খসড়া তৈরির কাজ চলছে। আমাদের লক্ষ্য গ্রামীণ এলাকার সার্বিক উন্নয়ন নিশ্চিত করা।’’
উল্লেখ্য, সমবায় ক্ষেত্রে কেন্দ্রের ১৭টি প্রকল্পের সফল বাস্তবায়নের লক্ষ্যে গত ৩০ নভেম্বর নবান্নে কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারের শীর্ষ কর্মকর্তাদের মধ্যে বৈঠক হয়েছে। সেই ধারাবাহিকতায় আগামী দুই মাসের মধ্যে ফের একটি পর্যালোচনা বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। দ্রুত এই আইনি সংশোধনের কাজ শেষ করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে দপ্তর।