দীপাবলির আগে ঘর রাঙাচ্ছেন? অজান্তেই ডেকে আনছেন বড় বিপদ!
বার্তা ডেস্কঃ
ঘর রং করার সময় যে সতর্কতা অবলম্বন জরুরি
নিজস্ব প্রতিবেদন: উৎসবের মরসুমে ঘর নতুন করে সাজিয়ে তোলার ঝোঁক থাকে অনেকেরই। তবে রং ও থিনারের মতো রাসায়নিক উপাদান অজান্তেই শরীরের বড় ধরনের ক্ষতি করতে পারে। রং করার সময় নির্গত তীব্র গন্ধ মাথাব্যথা, চোখে জ্বালাপোড়া, মাথা ঘোরা এবং শ্বাসকষ্টের মতো সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে। বিশেষ করে শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি বা অ্যালার্জি ও হাঁজলর রোগীদের ক্ষেত্রে এই ঝুঁকি আরও বেশি। বিশেষজ্ঞ ও চিকিৎসকদের মতে, নিরাপদ গৃহসজ্জার জন্য নিম্নোক্ত স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা আবশ্যক:
১. কম ভিওসি (VOC) যুক্ত রঙের ব্যবহার: রং কেনার সময় প্যাকেটের গায়ে ‘ভিওসি’ বা উদ্বায়ী জৈব যৌগের মাত্রা দেখে নিন। এই রাসায়নিক বাতাসে দ্রুত মিশে নিঃশ্বাসের মাধ্যমে শরীরে প্রবেশ করে। তাই স্বাস্থ্যঝুঁকি কমাতে সবসময় কম ভিওসিযুক্ত পরিবেশবান্ধব রং নির্বাচন করা উচিত।
২. পর্যাপ্ত বায়ু চলাচলের ব্যবস্থা: রং করার সময় ঘরের সব দরজা-জানালা খোলা রাখুন। প্রয়োজনে ফ্যান চালিয়ে বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা করুন যাতে ক্ষতিকর ধোঁয়া দ্রুত বেরিয়ে যেতে পারে। রঙের গন্ধ চলে গেলেও বিষাক্ত কণা বাতাসে থাকতে পারে, তাই রং পুরোপুরি শুকানোর পরও কিছুদিন ঘর ভালোভাবে বাতাস চলাচলের উপযুক্ত রাখুন।
৩. শিশু ও পোষ্যদের সুরক্ষা: কাজের সময় শিশু ও পোষ্যদের ওই এলাকা থেকে দূরে রাখুন। শিশুরা দেওয়ালে হাত দিয়ে তা মুখে দিতে পারে, যা বিপজ্জনক। এ ছাড়া রঙের পাত্র ও থিনার সবসময় তাদের নাগালের বাইরে রাখা জরুরি।
৪. পুরনো রং তোলার ক্ষেত্রে সতর্কতা: শুকনো অবস্থায় পুরনো রং ঘষে তোলা উচিত নয়। পুরনো রঙের স্তরে সিসা বা সীসার মতো ক্ষতিকারক উপাদান থাকতে পারে, যা ফুসফুসের মারাত্মক ক্ষতি করে। এই কাজের জন্য মাস্ক ব্যবহার এবং পেশাদারদের সাহায্য নেওয়া প্রয়োজন।
৫. সুরক্ষামূলক সরঞ্জাম ব্যবহার: যাঁরা সরাসরি রং করার কাজে যুক্ত, তাঁদের অবশ্যই মানসম্মত প্রটেক্টিভ মাস্ক, হ্যান্ড গ্লাভস এবং গগলস পরতে হবে। সাধারণ কাপড়ের মাস্ক বিষাক্ত রাসায়নিক ধোঁয়া থেকে সুরক্ষা দিতে সক্ষম নয়।
৬. অগ্নিকাণ্ড থেকে সাবধানতা: রং ও থিনার অত্যন্ত দাহ্য পদার্থ। তাই এগুলো গ্যাস স্টোভ, মোমবাতি বা আগুনের উৎস থেকে নিরাপদ দূরত্বে রাখতে হবে। রঙের অব্যবহৃত অংশ বা খালি কৌটো যেখানে-সেখানে না ফেলে সঠিক নিয়মে বর্জ্য অপসারণ করতে হবে।
ঘর সুন্দর করে তোলার পাশাপাশি পরিবারের সদস্যদের স্বাস্থ্যের দিকে নজর রাখা সমান জরুরি। সঠিক নিয়ম ও সতর্কতা মেনে চললেই উৎসবের আনন্দ হবে নিরাপদ ও স্বাস্থ্যকর।