গর্ভাবস্থায় ভ্রমণের আগে সাবধান! এই ভুলগুলো করলেই বিপদ!
বার্তা ডেস্কঃ
গর্ভাবস্থায় ভ্রমণ: মা ও সন্তানের নিরাপত্তায় জরুরি সতর্কতা
গর্ভাবস্থায় ভ্রমণের পরিকল্পনা করার সময় বিশেষ সতর্কতার প্রয়োজন, কারণ সামান্য অসাবধানতা মা ও অনাগত সন্তানের স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। চিকিৎসকদের মতে, গর্ভাবস্থার দ্বিতীয় ট্রাইমেস্টার বা চতুর্থ থেকে ষষ্ঠ মাস ভ্রমণের জন্য সবচেয়ে নিরাপদ সময়। এ সময় প্রথম তিন মাসের শারীরিক অস্বস্তি বা শেষ সময়ের জটিলতাগুলো তুলনামূলক কম থাকে, যা ভ্রমণকে আরামদায়ক করে তোলে।
চিকিৎসকের পরামর্শ ও যাতায়াত মাধ্যম
যেকোনো যাত্রার আগে স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া অপরিহার্য। উচ্চ রক্তচাপ বা গর্ভপাতের ইতিহাস থাকলে দীর্ঘ ভ্রমণের ঝুঁকি না নেওয়াই ভালো। এছাড়া যাতায়াতের মাধ্যম হিসেবে ট্রেন বা বিমান বেশি নিরাপদ ও আরামদায়ক। দীর্ঘক্ষণ গাড়িতে বা বাসে ঝাঁকুনিপূর্ণ রাস্তায় ভ্রমণ করলে কোমরে ব্যথা ও ক্লান্তি বাড়তে পারে, তাই এসব এড়িয়ে চলাই শ্রেয়। বিমান ভ্রমণের ক্ষেত্রে এয়ারলাইন্সের নীতিমালা মেনে ৩৬ সপ্তাহের পর যাত্রা না করার বিষয়টি মাথায় রাখা জরুরি।
ভ্রমণকালীন সচেতনতা ও করণীয়
ভ্রমণের সময় নিয়মিত বিরতিতে হাঁটাচলা করা প্রয়োজন, যাতে শরীরে রক্ত চলাচল স্বাভাবিক থাকে। প্রচুর পরিমাণে জল পান করার পাশাপাশি বাইরের অস্বাস্থ্যকর খাবার বর্জন করা স্বাস্থ্যের জন্য জরুরি। এছাড়া জরুরি প্রয়োজনে ব্যবহারের জন্য প্রয়োজনীয় ওষুধ, চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশন এবং গন্তব্যের কাছের হাসপাতালের তথ্য সাথে রাখা বুদ্ধিমানের কাজ। সচেতনতা ও সঠিক প্রস্তুতির মাধ্যমেই গর্ভাবস্থার ভ্রমণের অভিজ্ঞতাকে নিরাপদ ও আনন্দদায়ক করা সম্ভব।
এক ঝলকে
- ভ্রমণের জন্য গর্ভাবস্থার চতুর্থ থেকে ষষ্ঠ মাস বা দ্বিতীয় ট্রাইমেস্টার সবচেয়ে উপযুক্ত সময়।
- যাত্রার আগে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে এবং শারীরিক জটিলতা থাকলে দীর্ঘ ভ্রমণ বর্জনীয়।
- দীর্ঘক্ষণ বসে না থেকে মাঝে মাঝে হাঁটাচলা ও পর্যাপ্ত জল পান নিশ্চিত করতে হবে।
- প্রয়োজনীয় ওষুধ ও প্রেসক্রিপশন সাথে রাখার পাশাপাশি গন্তব্যের কাছাকাছি হাসপাতালের খোঁজ রাখতে হবে।