নথি সুরক্ষায় নবান্নের কড়া নজরদারি, সরকার বদলের মুখে কর্মীদের জন্য জারি হল বিশেষ নিষেধাজ্ঞা
রাজ্যে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের আবহে সরকারি নথিপত্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নজিরবিহীন পদক্ষেপ নিল নবান্ন। ভোট গণনার ফল ঘোষণার পরপরই রাজ্যের মুখ্যসচিব দুষ্মন্ত নারিয়ালা এক বিশেষ নির্দেশিকা জারি করেছেন। মূলত ক্ষমতা হস্তান্তরের সন্ধিক্ষণে সরকারি দপ্তরের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ও কাগজের গোপনীয়তা বজায় রাখতেই এই কঠোর অবস্থান নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
নথি সরানো ও প্রতিলিপিতে নিষেধাজ্ঞা
মুখ্যসচিবের জারি করা নতুন নির্দেশিকায় স্পষ্ট জানানো হয়েছে, অনুমতি ছাড়া সরকারি অফিস থেকে কোনো নথিপত্র বা ফাইল বাইরে নিয়ে যাওয়া যাবে না। শুধুমাত্র নথি স্থানান্তরই নয়, অফিসের কোনো কাগজের জেরক্স বা প্রিন্ট আউট করার ক্ষেত্রেও এখন থেকে যথাযথ কর্তৃপক্ষের পূর্বানুমতি বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এ ছাড়া, ডিজিটাল বা হার্ডকপি আদান-প্রদানের ক্ষেত্রেও কঠোরভাবে সরকারি নিয়ম মেনে চলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে কর্মীদের।
কেন এই কঠোর পদক্ষেপ?
দীর্ঘ ১৫ বছর পর রাজ্যে সরকার পরিবর্তন হতে চলেছে। গত দেড় দশকে তৃণমূল সরকারের বিভিন্ন প্রকল্পের নথিপত্র, প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত এবং আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত অজস্র ফাইল নবান্নসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে রয়েছে। প্রশাসনিক মহলের ধারণা, নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার আগে রাজনৈতিক প্রভাবে বা ব্যক্তিগত স্বার্থে কোনো গুরুত্বপূর্ণ নথি নষ্ট বা সরিয়ে ফেলা হতে পারে—এমন আশঙ্কা থেকেই তড়িঘড়ি এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
প্রশাসনের স্থিতিশীলতা রক্ষার চেষ্টা
এই নির্দেশিকার মাধ্যমে নবান্ন আদতে ক্ষমতার পালাবদলের সময় একটি স্বচ্ছ ও নিরাপদ প্রশাসনিক প্রক্রিয়া বজায় রাখতে চাইছে। পর্যবেক্ষকদের মতে, নতুন সরকার যখন দায়িত্ব গ্রহণ করে, তখন পূর্ববর্তী মেয়াদের কাজের খতিয়ান ও নথিপত্র অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়ে। কোনো কারণে যদি তথ্যের লোপাট ঘটে, তবে প্রশাসনিক কাজে স্থবিরতা আসার পাশাপাশি আইনি জটিলতাও তৈরি হতে পারে। সেই সম্ভাব্য সংকট এড়াতেই মুখ্যসচিবের এই দূরদর্শী পদক্ষেপ। এখন থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত নবান্নের প্রতিটি স্তরে এই কড়াকড়ি বলবৎ থাকবে।