বাংলার রাজনৈতিক পালাবদলে টলিপাড়ায় ভাঙনের সুর, জয়ের পর সরব হলেন জিৎ-যশ
বাংলার মসনদে বিজেপির ঐতিহাসিক জয় বিনোদন জগৎ বা টলিপাড়ার দীর্ঘদিনের সমীকরণ এক নিমেষে বদলে দিয়েছে। গত দেড় দশক ধরে টলিউডের একটি বড় অংশ শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে ছিল। তারকাদের বিধায়ক বা সাংসদ হওয়া থেকে শুরু করে রাজনৈতিক মিছিলে প্রথম সারিতে থাকা—সবই ছিল চেনা ছবি। তবে এবারের নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর সেই চেনা ছকে বড়সড় পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এতদিন যারা মৌন ছিলেন বা শাসকদলের ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত ছিলেন, তাদের একাংশের অবস্থানে এখন স্পষ্ট পরিবর্তনের ইঙ্গিত।
তারকাদের নীরবতা ও নতুন সমীকরণ
ফলাফল প্রকাশের পর থেকেই টলিউডের অন্দরে এক অদ্ভুত স্তব্ধতা বিরাজ করছে। শাসকদলের হয়ে প্রচার চালানো অনেক তারকাই এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নীরব। অন্যদিকে, এতদিন যারা রাজনৈতিক মঞ্চ থেকে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে চলতেন, তারা এখন পরিবর্তনের পক্ষে সওয়াল করছেন। বিশ্লেষকদের মতে, ক্ষমতার এই পালাবদল টলিউডের অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার অলিন্দেও বড় প্রভাব ফেলবে। বিশেষ করে যারা সরাসরি রাজনীতির ময়দানে ছিলেন, তাদের ভবিষ্যৎ এবং ইন্ডাস্ট্রিতে তাদের প্রভাব নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
জিৎ-যশদের শুভেচ্ছা ও আগামীর সংকেত
ব্যক্তিগত জীবন ও ক্যারিয়ার নিয়ে ব্যস্ত থাকা সুপারস্টার জিৎ বরাবরই নিজেকে রাজনীতির ঊর্ধ্বে রেখেছিলেন। তবে বিজেপির জয়ের পর তিনি এই পরিবর্তনকে ‘ঐতিহাসিক মুহূর্ত’ হিসেবে অভিহিত করে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। তার এই মন্তব্যকে অনেকেই রাজ্যের নতুন প্রশাসনিক কাঠামোর সঙ্গে পেশাদার সুসম্পর্ক বজায় রাখার কৌশল হিসেবে দেখছেন। অন্যদিকে অভিনেতা যশ দাশগুপ্ত এবং অঙ্কুশ হাজরা সরাসরি বিজেপির এই জয়কে গণতন্ত্রের জয় বলে আখ্যা দিয়েছেন। যশ স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, বাংলা এখন উন্নয়নের জন্য প্রস্তুত। তারকাদের এই ভোলবদল এবং নতুন সরকারকে স্বাগত জানানোর প্রবণতা ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, টলিপাড়ার ক্ষমতার ভরকেন্দ্র খুব দ্রুতই পরিবর্তিত হতে চলেছে। এর ফলে আগামী দিনে বাংলা চলচ্চিত্র শিল্পের অনুদান, পরিকাঠামো এবং প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণেও বড় ধরনের রদবদল ঘটার সম্ভাবনা প্রবল।