মোদীর হুঁশিয়ারিই কি সত্যি হলো, মমতার বাংলায় ৯ জেলায় কেন খাতা খুলতে পারল না তৃণমূল?
২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বাংলার রাজনৈতিক মানচিত্রে এক অভাবনীয় পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেল। ভোটের প্রচারে এসে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী যে হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন, ফলাফল প্রকাশের পর দেখা যাচ্ছে তার প্রতিফলন ঘটেছে অক্ষরে অক্ষরে। উত্তর থেকে দক্ষিণ—রাজ্যের মোট ৯টি জেলায় শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস একটি আসনও দখল করতে পারেনি, যা রাজ্যের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ইতিহাসে এক নজিরবিহীন ঘটনা।
উত্তরবঙ্গে গেরুয়া ঝড় ও পাহাড়ের সমীকরণ
উত্তরবঙ্গের জেলাগুলোতে কার্যত ধুয়ে-মুছে সাফ হয়ে গিয়েছে ঘাসফুল শিবির। আলিপুরদুয়ারের ৫টি, জলপাইগুড়ির ৭টি, দার্জিলিংয়ের ৫টি এবং কালিম্পংয়ের ১টি আসনের সবকটিতেই জয়ী হয়েছে বিজেপি। এই সাফল্যের নেপথ্যে প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া এইমসের আদলে হাসপাতাল তৈরি এবং চা-শিল্প নিয়ে নির্দিষ্ট প্রতিশ্রুতি বড় ভূমিকা পালন করেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। অন্যদিকে, পাহাড়ের জোট সঙ্গী অনীত থাপার মতে, প্রবল প্রতিষ্ঠান বিরোধী হাওয়ার মুখে তৃণমূলের উন্নয়নমূলক প্রচার ধোপে টেকেনি।
জঙ্গলমহল ও শিল্পাঞ্চলে পদ্ম-প্রতাপ
দক্ষিণবঙ্গের জঙ্গলমহল এলাকাতেও তৃণমূলের ফল বিপর্যয় চরমে পৌঁছেছে। পুরুলিয়া, বাঁকুড়া এবং ঝাড়গ্রামের মোট ২৫টি আসনের একটিতেও জয় পায়নি শাসক দল। মূলত কুর্মি আন্দোলন এবং আদিবাসী ভোটব্যাঙ্কের বড় অংশ বিজেপির দিকে ঝুঁকে পড়ায় এই ভরাডুবি হয়েছে। এর পাশাপাশি শিল্পাঞ্চল হিসেবে পরিচিত পশ্চিম বর্ধমান জেলাতেও বড়সড় ধস নেমেছে তৃণমূলের দুর্গে। গত নির্বাচনে এখানে আধিপত্য থাকলেও, এবার সবকটি আসনই গেরুয়া শিবিরের দখলে গিয়েছে।
বিপর্যস্ত তৃণমূল ও রাজনৈতিক প্রভাব
তৃণমূলের এই বিপর্যয়ের পেছনে অভ্যন্তরীণ কোন্দল, কেন্দ্রীয় প্রকল্পের বাস্তবায়ন নিয়ে অসন্তোষ এবং বিজেপির সুসংহত প্রচারকে প্রধান কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে শুভেন্দু অধিকারীর হাত ধরে মমতার খাসতালুক ভবানীপুরে পরাজয় শাসক শিবিরের জন্য বড় ধাক্কা। ৯টি জেলায় খাতা খুলতে না পারার এই ঘটনা আগামী দিনে রাজ্যের প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতায় বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। অন্যদিকে, এই ফলাফলের মাধ্যমে বাংলায় বিজেপির ভিত্তি যে আরও মজবুত হলো, তা স্পষ্ট।