জল্পনার অবসান ঘটিয়ে আজই কি বাংলার নতুন মুখ্যমন্ত্রীর নাম ঘোষণা!
কলকাতা: ২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে বাংলায় প্রথমবার ক্ষমতায় আসতে চলেছে ভারতীয় জনতা পার্টি। ২০৬টি আসনে জয়লাভ করে ‘ডবল সেঞ্চুরি’ হাঁকানোর পর এখন রাজনৈতিক মহলের সবথেকে বড় প্রশ্ন— কে হচ্ছেন রাজ্যের পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী? এই জল্পনার অবসান ঘটাতে আজই কলকাতায় বৈঠকে বসছে বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব। কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক হিসেবে প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের উপস্থিতিতেই পরিষদীয় দলের বৈঠকে চূড়ান্ত হতে পারে বাংলার নতুন শাসনকর্তার নাম।
শীর্ষ তালিকায় শুভেন্দু ও আদি-নব্য দ্বন্দ্বের সমীকরণ
মুখ্যমন্ত্রী পদের দৌড়ে এই মুহূর্তে সবথেকে এগিয়ে রয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। নন্দীগ্রাম ও ভবানীপুরের মতো হাই-প্রোফাইল কেন্দ্রে বিজেপির সাফল্যের কারিগর হিসেবে তাঁর নাম নিয়ে জোর চর্চা চলছে। তবে শুভেন্দুকে ঘিরে দলের ভেতরে কিছুটা জটিলতাও রয়েছে। তিনি মূলত তৃণমূল ত্যাগী নেতা হওয়ায় ‘আদি’ বিজেপি কর্মীদের একাংশের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দিচ্ছে না রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। এছাড়া রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (আরএসএস) সঙ্গে তাঁর সরাসরি যোগসূত্র না থাকাটাও একটি বিবেচ্য বিষয়। পাশাপাশি দিলীপ ঘোষ বা শমীক ভট্টাচার্যের মতো পুরোনো মুখদের নিয়েও জল্পনা জারি রয়েছে।
বিজেপির রণকৌশল ও সম্ভাব্য প্রভাব
নির্বাচনী প্রচারে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে, বাংলার ভূমিপুত্রই হবেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী। আজ রাজনাথ সিংয়ের উপস্থিতিতে বৈঠকের পর দলের প্রতিনিধি দল রাজভবনে গিয়ে সরকার গঠনের দাবি জানাতে পারে। বিজেপি নেতৃত্বের সামনে এখন বড় চ্যালেঞ্জ হলো এমন একজনকে বেছে নেওয়া, যিনি একাধারে প্রশাসনিকভাবে দক্ষ এবং অন্যদিকে দলের অভ্যন্তরীণ ভারসাম্য বজায় রাখতে সক্ষম। আজ নাম চূড়ান্ত হওয়ার পর থেকেই রাজ্যের প্রশাসনিক কাঠামোয় বড় ধরনের রদবদলের সম্ভাবনা দেখা দিচ্ছে, যা বাংলার আগামীর রাজনীতিতে সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলবে।