পরাজিত মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের পার্টি অফিস দখল করল বিজেপি! উত্তপ্ত টালিগঞ্জ ও ভবানীপুর
টালিগঞ্জ বিধানসভা কেন্দ্রে তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী অরূপ বিশ্বাসের অভাবনীয় পরাজয়ের পরই রণক্ষেত্রের রূপ নিল এলাকা। দীর্ঘদিনের দাপুটে এই নেতার পরাজয়ের খবর প্রকাশ্যে আসতেই তাঁর ব্যক্তিগত ও দলীয় কার্যালয় দখলের অভিযোগ উঠল বিজেপি কর্মীদের বিরুদ্ধে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুধু টালিগঞ্জ নয়, পাশের কেন্দ্র ভবানীপুরেও চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে।
টালিগঞ্জে গেরুয়া আবির ও পতাকা বদল
ফলাফল ঘোষণার পর দেখা যায় টালিগঞ্জে বড় ব্যবধানে হেরেছেন অরূপ বিশ্বাস। হারের খবর চাউর হতেই উত্তেজিত বিজেপি কর্মী-সমর্থকরা অরূপ বিশ্বাসের পার্টি অফিসের সামনে ভিড় জমাতে শুরু করেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, তৃণমূলের দলীয় পতাকা সরিয়ে সেখানে বিজেপির ঝাণ্ডা লাগিয়ে দেওয়া হয়। অফিসের সামনেই বিজেপি কর্মীরা গেরুয়া আবির খেলে জয়ের উল্লাস প্রকাশ করেন। তৃণমূলের অভিযোগ, পেশ পেশীবল ব্যবহার করে তাঁদের দীর্ঘদিনের কার্যালয়টি দখল করে নিয়েছে বিজেপি। অন্যদিকে, বিজেপি নেতৃত্বের দাবি এটি সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত প্রতিক্রিয়ার বহিঃপ্রকাশ।
ভবানীপুরেও অশান্তি ও কাউন্সিলরের অফিসে হামলা
টালিগঞ্জের রেশ গিয়ে পড়ে হাই-প্রোফাইল কেন্দ্র ভবানীপুরেও। এই বিধানসভা এলাকার ৭০ নম্বর ওয়ার্ডের নর্দান পার্কে ব্যাপক উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। অভিযোগ উঠেছে, সেখানকার তৃণমূল কাউন্সিলর অসীম কুমার বোসের অফিস লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। ভাঙচুরের পাশাপাশি তৃণমূল কর্মীদের ভয় দেখানোর অভিযোগও উঠেছে বিরোধী শিবিরের বিরুদ্ধে। এলাকায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বিশাল পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।
রাজনৈতিক সংঘাত ও সম্ভাব্য প্রভাব
এই রাজনৈতিক অস্থিরতার মূলে রয়েছে দীর্ঘদিনের দলীয় রেষারেষি এবং ক্ষমতার হাতবদল। অরূপ বিশ্বাসের মতো হেভিওয়েট নেতার পরাজয় যেমন শাসক শিবিরের জন্য বড় ধাক্কা, তেমনই বিজেপির এই দখলদারি এলাকা দখলের লড়াইকে আরও উসকে দিচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, ফলাফল পরবর্তী এই হিংসা ও অফিস দখলের রাজনীতি কলকাতার প্রশাসনিক স্থিতিশীলতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। পুলিশি টহল বাড়ানো হলেও দুই দলের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছে।