বিরোধী দলনেতা না কি শুধু সাংগঠনিক দায়িত্ব? তৃণমূলের হারের পর আজ খোলসা করতে পারেন অভিষেক-মমতা

দীর্ঘ দেড় দশকের শাসনকাল শেষে তৃণমূল কংগ্রেস (TMC) এখন বিরোধী আসনে। এই পটপরিবর্তনে সবচেয়ে বেশি চর্চায় রয়েছেন দলের ‘সেকেন্ড ইন কমান্ড’ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এতদিন ক্ষমতার অলিন্দে থেকে দল পরিচালনা করলেও, প্রতিকূল পরিস্থিতিতে বিরোধী রাজনীতিতে তিনি কতটা সফল হবেন, তা নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে কাটাছেঁড়া শুরু হয়েছে।

অভিষেকের নতুন চ্যালেঞ্জ ও নেতৃত্বের পরীক্ষা

তৃণমূলের ক্ষমতায় থাকাকালীন অভিষেকের রাজনৈতিক উত্থান ছিল উল্কার গতিতে। মূলত শাসকের অনুকূল পরিবেশেই তিনি দলের সাংগঠনিক শক্তিবৃদ্ধি করেছেন। তবে বর্তমানে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন। প্রথমবারের মতো বিরোধী দলের সৈনিক হিসেবে রাজপথে লড়াই করা এবং জনমতকে পুনরায় নিজেদের পক্ষে আনা তাঁর জন্য এক বড় পরীক্ষা। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শাসকদলের নেতা হিসেবে যে রণকৌশল কাজ করে, বিরোধী অবস্থানে তা সবসময় কার্যকর হয় না। ফলে অভিষেকের আগ্রাসী ভাবমূর্তি সাধারণ মানুষের কাছে কতটা গ্রহণযোগ্য হবে, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।

সাংগঠনিক পদ নাকি বিরোধী দলনেতা

আজ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে অভিষেকের প্রস্তাবিত সাংবাদিক বৈঠকটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। দল কি তাঁকে বিধানসভায় ‘বিরোধী দলনেতা’র গুরুদায়িত্ব দিয়ে সামনের সারিতে নিয়ে আসবে, নাকি তিনি পর্দার আড়ালে থেকে সংগঠনের হাল ধরবেন, তা নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে। বিরোধী শিবিরে অভিষেক যদি সরাসরি নেতৃত্বের ব্যাটন হাতে নেন, তবে সরকারের ভুলত্রুটি তুলে ধরা এবং আন্দোলনের রূপরেখা তৈরির ক্ষেত্রে তাঁকে নতুন করে নিজেকে প্রমাণ করতে হবে।

তৃণমূলের এই পরিবর্তনের যুগে অভিষেকের প্রতিটি পদক্ষেপ আগামী দিনে দলের অস্তিত্ব এবং পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতির মেরুকরণ নির্ধারণ করবে। আজকের বৈঠকের পর তাঁর নতুন ভূমিকার স্পষ্ট ইঙ্গিত পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে রাজনৈতিক মহল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *