ময়নায় দিন্দার দাপুটে জয়, ঐতিহাসিক পরিবর্তনের দিনে ‘অভয়া’কে স্মরণ প্রাক্তন ক্রিকেটারের
২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বাংলার রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এক ঐতিহাসিক পটপরিবর্তন ঘটেছে। দীর্ঘ ১৫ বছরের তৃণমূল শাসনের অবসান ঘটিয়ে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় আসতে চলেছে ভারতীয় জনতা পার্টি। এই ঝোড়ো হাওয়ার মধ্যেই নিজের দুর্গ ধরে রাখলেন ভারতের প্রাক্তন পেসার অশোক দিন্দা। পূর্ব মেদিনীপুরের ময়না বিধানসভা কেন্দ্র থেকে টানা দ্বিতীয়বারের মতো বিধায়ক নির্বাচিত হয়ে রাজনীতির ২২ গজেও নিজের আধিপত্য বজায় রাখলেন এই স্পিডস্টার।
ভোটের লড়াই ও জয়ের ব্যবধান
নির্বাচনী লড়াইয়ে দিন্দার বোলিংয়ের সামনে কার্যত দাঁড়াতেই পারেননি বিরোধীরা। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী চন্দন মণ্ডলকে ১৫ হাজারেরও বেশি ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করেছেন তিনি। উল্লেখ্য, ২০২১ সালের নির্বাচনে দিন্দা মাত্র ১,২৬০ ভোটে জয়ী হয়েছিলেন। এবার সেই জয়ের ব্যবধান কয়েকগুণ বাড়িয়ে তিনি প্রমাণ করলেন, রাজনীতির ময়দানেও তিনি এখন অপরিহার্য। ক্রিকেটীয় পরিভাষায় বলতে গেলে, প্রতিপক্ষকে রীতিমতো ‘ক্লিন বোল্ড’ করে ময়নায় জয়ের ধারা বজায় রাখলেন নৈছনপুর এক্সপ্রেস।
সাফল্যের নেপথ্যে ও আগামীর প্রভাব
এই জয়ের পর আবেগঘন বার্তায় দিন্দা একে ‘সাধারণ মানুষের জয়’ এবং ‘অভয়ার জয়’ বলে অভিহিত করেছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, রাজ্যের সাম্প্রতিক নানা ইস্যু এবং পরিবর্তনের ডাক দিন্দার জয়ের পথকে আরও সুগম করেছে। বাংলার শাসনক্ষমতায় বিজেপি আসীন হওয়ায় দিন্দার গুরুত্বও কয়েকগুণ বেড়েছে। জল্পনা শুরু হয়েছে যে, অভিজ্ঞ খেলোয়াড় এবং দক্ষ সংগঠক হিসেবে নতুন মন্ত্রিসভায় রাজ্যের ক্রীড়া মন্ত্রকের দায়িত্ব তাঁর কাঁধেই উঠতে পারে। ক্রিকেটের ময়দান থেকে রাজনীতির অলিন্দে অশোক দিন্দার এই উত্তরণ বাংলার নতুন রাজনৈতিক সমীকরণে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে রইল।