হারিনি, ভোট লুট হয়েছে! ইস্তফা দেওয়ার প্রশ্নই নেই, সাফ জানিয়ে দিলেন মমতা

কলকাতা ৫ মে, ২০২৬। নির্বাচনের ফলাফল স্পষ্ট হওয়ার পর রাজ্য রাজনীতিতে যখন প্রবল আলোড়ন, ঠিক তখনই কালীঘাটের বাড়ি থেকে এক বিস্ফোরক সাংবাদিক বৈঠক করলেন বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ২৯৩টি আসনের মধ্যে বিজেপি ২০৭টিতে জয় পেলেও তৃণমূলের ঝুলিতে এসেছে মাত্র ৮০টি আসন। এই ভরাডুবির পর নৈতিক দায় স্বীকার করে তিনি কি পদত্যাগ করবেন? সাংবাদিকদের এই প্রশ্নের উত্তরে সপাটে মমতা জানিয়ে দিলেন, “কেন পদত্যাগ করব? আমরা তো হারিনি! জোর করে ভোট লুট করা হয়েছে। ইস্তফা দেওয়ার প্রশ্ন কেন উঠছে?”

নির্বাচন কমিশনই আসল ‘ভিলেন’

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিশানায় আজ সরাসরি ছিল দেশের নির্বাচন কমিশন। কমিশনকে ‘ভিলেন’ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি দাবি করেন, কমিশনের প্রত্যক্ষ মদতে ১০০-র বেশি আসন লুট করা হয়েছে। তাঁর কথায়, “ওরা এমনি জিতলে আমার কোনও অভিযোগ থাকত না। ভোটে হার-জিত থাকেই। কিন্তু তা তো হয়নি। আমরা হারিনি। ওরা ভোট লুট করেছে। বিজেপি আর কমিশনের মধ্যে বেটিং হয়েছে।” এই গোটা প্রক্রিয়ায় প্রধানমন্ত্রী ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সরাসরি যুক্ত বলেও গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন তিনি।

কালো ইতিহাস তৈরির অভিযোগ

তৃণমূল নেত্রীর দাবি, এবারের নির্বাচনে কমিশন এক ‘কালো ইতিহাস’ তৈরি করল। নির্বাচনের আগে পরিকল্পিতভাবে অফিসারদের বদলে দেওয়া, তৃণমূল নেতাদের বাড়িতে তল্লাশি চালানো এবং সিসিটিভি বিভ্রাট—প্রতিটি বিষয়কেই তিনি গভীর ষড়যন্ত্র হিসেবে দেখছেন। তিনি বলেন, “আমাদের এই লড়াই বিজেপির বিরুদ্ধে ছিল না। নির্বাচন কমিশন এখানে ভিলেনের ভূমিকা পালন করেছে। তারা মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার লুট করেছে।”

রাস্তায় ছিলাম, রাস্তাতেই থাকব

ভোটের ফল তৃণমূলের বিপক্ষে গেলেও দমে যেতে নারাজ বাংলার অগ্নিকন্যা। তিনি জানিয়েছেন, দলের নির্বাচিত প্রতিনিধিরা তাঁর পাশেই আছেন। পরাজয়ের গ্লানি ঝেড়ে ফেলে পুনরায় ঘুরে দাঁড়ানোর বার্তা দিয়ে মমতা বলেন, “আমি রাস্তায় ছিলাম, রাস্তায় থাকব এবং জনতাকে সঙ্গে নিয়ে ঘুরে দাঁড়াব।” সাংবাদিক বৈঠকে মমতার পাশে উপস্থিত ছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়, ফিরহাদ হাকিম, চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য ও কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো হেভিওয়েট নেতারা।

বিকেলে কালীঘাটের এই বৈঠক থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় লোক ভবনে গিয়ে ইস্তফা দেওয়ার জল্পনাও কার্যত উড়িয়ে দিয়েছেন। তাঁর স্পষ্ট কথা, যেখানে জয়ের রায় ছিনতাই হয়েছে, সেখানে ইস্তফার কোনও প্রশ্নই ওঠে না। এই ফলাফলকে অস্বীকার করে আগামী দিনে বৃহত্তর আন্দোলনের ইঙ্গিতও দিয়ে রাখলেন তিনি।

প্রতিবেদক: বর্তমান ঠাকুর।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *