পদত্যাগের দাবিতে অনড় বিজেপি, মমতাকে আল্টিমেটাম বিরোধী শিবিরের

পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এক নজিরবিহীন টানাপড়েন শুরু হয়েছে। বিধানসভা নির্বাচনে পরাজয়ের পরও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পদত্যাগ না করার সিদ্ধান্তকে ঘিরে উত্তাল রাজ্য রাজনীতি। এই পরিস্থিতিতে সরব হয়েছে বিজেপি নেতৃত্ব। দলের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, আগামী ৭ তারিখের মধ্যে মুখ্যমন্ত্রীকে পদত্যাগ করতে হবে। সাংবাদিক বৈঠকে বিজেপির প্রধান মুখপাত্র দেবজিৎ সরকার কড়া ভাষায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বর্তমান আচরণের সমালোচনা করে এই চরমসীমা বেঁধে দেন।

বিজেপির দাবি অনুযায়ী, তিনবারের একজন মুখ্যমন্ত্রীর কাছ থেকে গণতান্ত্রিক শিষ্টাচার আশা করা হলেও বর্তমান পরিস্থিতি তার বিপরীত। গেরুয়া শিবিরের মতে, নির্বাচনের ফলাফল স্পষ্ট হওয়ার পর মুখ্যমন্ত্রীর পদে থাকা নৈতিকভাবে সমর্থনযোগ্য নয়। ৭ তারিখের পর তাঁর পদত্যাগ করা বা না করা আর কোনো গুরুত্ব বহন করবে না বলেও গেরুয়া শিবিরের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে।

ভোটের ফল বনাম মমতার অবস্থান

নির্বাচনী ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, রাজ্যের ২৯৩টি আসনের মধ্যে বিজেপি ২০৭টি আসনে জয়লাভ করে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে। অন্যদিকে, শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস থমকে গিয়েছে মাত্র ৮০টি আসনে। এমনকি ভবানীপুর কেন্দ্রে নিজ দলের দুর্গ সামলাতে ব্যর্থ হয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারীর কাছে ১৫ হাজারেরও বেশি ভোটে পরাজিত হয়েছেন তিনি।

বিরাজমান এই প্রতিকূলতার মধ্যেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজের অবস্থানে অনড়। তাঁর অভিযোগ, নির্বাচনে ব্যাপক কারচুপি করা হয়েছে এবং জোর করে তাঁকে হারানো হয়েছে। গণনাকেন্দ্র থেকে এজেন্টদের বের করে দেওয়া এবং নথিপত্র ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ তুলে তিনি সাফ জানিয়েছেন যে, এই পরাজয় তিনি মেনে নিচ্ছেন না এবং এখনই পদত্যাগ করার কোনো প্রশ্নই ওঠে না।

রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক প্রভাব

রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভারতের সংসদীয় গণতন্ত্রের রীতি অনুযায়ী নির্বাচনে পরাজয়ের পর সাধারণত মুখ্যমন্ত্রীরা দ্রুত পদত্যাগ করেন। ২০১১ সালের উদাহরণ টেনে তাঁরা মনে করাচ্ছেন যে, সেই সময় বামফ্রন্টের পরাজয় নিশ্চিত হতেই তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য দ্রুত ইস্তফাপত্র জমা দিয়েছিলেন। বর্তমান পরিস্থিতিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই অনড় অবস্থান রাজ্যে একটি সাংবিধানিক সংকট তৈরি করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এদিকে, নির্বাচনের পরবর্তী হিংসা নিয়ে কড়া অবস্থান নিয়েছে বিজেপি। দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নাম ভাঙিয়ে কেউ হিংসায় জড়িয়ে পড়লে বিজেপি তাঁর দায় নেবে না। রাতারাতি কাউকে দলে অন্তর্ভুক্ত করার প্রক্রিয়াও বন্ধ রাখা হয়েছে। আল্টিমেটাম অনুযায়ী ৭ তারিখের মধ্যে মুখ্যমন্ত্রী পদত্যাগ না করলে এই সংঘাত আরও তীব্র হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যা প্রশাসনিক স্তরেও অস্থিরতা বাড়াতে পারে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *