রাজ্যে জারি হতে পারে রাষ্ট্রপতি শাসন! হারলেও পদত্যাগে নারাজ মমতা, পাল্টা চরম ব্যবস্থার পথে রাজভবন?

পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক নজিরবিহীন অধ্যায়ের সূচনা হলো। বিধানসভা নির্বাচনে পরাজয়ের পরেও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পদত্যাগ না করার সিদ্ধান্ত রাজ্যকে এক গভীর সাংবিধানিক সংকটের মুখে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। সাধারণত নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের পর বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী রাজ্যপালের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন এবং নতুন সরকার গঠন না হওয়া পর্যন্ত ‘কেয়ারটেকার’ বা তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই দীর্ঘকালীন রীতি লঙ্ঘিত হওয়ায় প্রশাসনিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।

সংবিধানের ১৬৪ অনুচ্ছেদ ও রাজ্যপালের ক্ষমতা

রাজ্যের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে সংবিধান বিশেষজ্ঞদের মধ্যে নানা বিশ্লেষণ শুরু হয়েছে। সংবিধানের ১৬৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, মুখ্যমন্ত্রীকে নিয়োগ করেন রাজ্যপাল এবং মন্ত্রীরা তাঁর ‘সন্তুষ্টি’ (Pleasure) অনুযায়ী পদে বহাল থাকেন। যেহেতু নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেস পরাজিত হয়েছে এবং আগামী ৭ মে বর্তমান সরকারের আইনি মেয়াদ শেষ হতে চলেছে, তাই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্বপদে টিকে থাকার আর কোনো নৈতিক বা সাংবিধানিক ভিত্তি নেই বলেই মনে করছেন ওয়াকিবহাল মহলের একাংশ। এই পরিস্থিতিতে রাজ্যপাল এন রবি চাইলে বর্তমান মুখ্যমন্ত্রীকে পদচ্যুত বা বরখাস্ত করার মতো কঠোর পদক্ষেপ নিতে পারেন।

রাষ্ট্রপতি শাসন ও সম্ভাব্য প্রভাব

বিজেপি সূত্রের খবর অনুযায়ী, আগামী ৯ মে নতুন মুখ্যমন্ত্রী শপথ নিতে পারেন। কিন্তু বর্তমান সরকারের মেয়াদ ৭ মে শেষ হয়ে যাওয়ার ফলে মাঝের দুদিন রাজ্যে কোনো বৈধ সরকার থাকবে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। যদি এই সময়ের মধ্যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পদত্যাগ না করেন এবং রাজ্যপাল নতুন কাউকে নিয়োগ না করেন, তবে রাজ্যে স্বল্পমেয়াদী রাষ্ট্রপতি শাসন জারি হওয়াও অসম্ভব নয়। যদিও রাজ্যপাল চাইলে নিজেই বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রীকে চিঠি দিয়ে অন্তর্বর্তীকালীন কাজ চালিয়ে যাওয়ার অনুরোধ করতে পারেন, তবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনড় অবস্থান বিষয়টিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

রাজ্য সরকারের মেয়াদ শেষ হতে চললেও বর্তমান বিধানসভার সদস্যদের মেয়াদ এখনও অতিক্রান্ত হয়নি। ফলে পরাজিত বিধায়করাও এখনও কারিগরিভাবে সদস্যপদে বহাল। এই আইনি মারপ্যাঁচ এবং মুখ্যমন্ত্রীর পদত্যাগ না করার ঘোষণায় লোক ভবনের পরবর্তী পদক্ষেপ কী হয়, এখন সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে গোটা দেশ। এমন পরিস্থিতি ভারতীয় সংসদীয় গণতন্ত্রে অত্যন্ত বিরল, যা আগামী দিনে রাজ্যের প্রশাসনিক কাঠামোয় বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *