ছাব্বিশের পালাবদল হতেই জগদ্দলে চলল বুলডোজার! জবরদখলমুক্ত হলো ব্যক্তিগত জমি
রাজ্যে রাজনৈতিক ক্ষমতার পরিবর্তনের রেশ কাটতে না কাটতেই জগদ্দলে শুরু হলো জমি পুনরুদ্ধারের তৎপরতা। দীর্ঘ পনেরো বছরের তৃণমূল কংগ্রেস শাসনের অবসান ঘটিয়ে ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি জয়ী হতেই জগদ্দলের গাঙ্গুলিপাড়া এলাকায় একটি বিতর্কিত জায়গা বুলডোজার দিয়ে গুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। সোমবার নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের পর পরই এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
জবরদখলমুক্ত ব্যক্তিগত মালিকানা
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, জগদ্দল বিধানসভার গাঙ্গুলিপাড়া এলাকার বাসিন্দা কাজলী গাঙ্গুলীর একটি ব্যক্তিগত জায়গা দীর্ঘদিন ধরে জবরদখল করে রাখার অভিযোগ ছিল প্রাক্তন বিধায়ক সোমনাথ শ্যামের বিরুদ্ধে। অভিযোগ, ২০২২ সালে ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে ওই ব্যক্তিগত জায়গায় জোরপূর্বক ‘বিশ্ব বাংলা’ লোগো ব্যবহার করে একটি পার্ক তৈরি করেছিলেন তৎকালীন বিধায়ক। ৪ মে রাজ্যে ক্ষমতার পটপরিবর্তন হওয়ার পরেই ওই জমির মালিক ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা বুলডোজার নিয়ে এসে পার্কের পরিকাঠামো ভেঙে জায়গাটি জবরদখলমুক্ত করেন।
ঘটনার সময় এলাকায় বিজেপি নেতাকর্মীদের উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেলেও দলীয়ভাবে এর দায় নিতে অস্বীকার করা হয়েছে। বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, এটি সম্পূর্ণ একটি পরিবারের ব্যক্তিগত লড়াই। দীর্ঘদিনের জবরদখল থেকে তাঁরা নিজেদের জমি উদ্ধার করছেন, যার সাথে রাজনীতির সরাসরি কোনো যোগসূত্র নেই।
উচ্ছেদ অভিযান ও সামগ্রিক পরিস্থিতি
জমি পুনরুদ্ধারের এই চিত্র কেবল জগদ্দলেই সীমাবদ্ধ নেই। গত ২ মে পান্ডুয়ায় রেলের জমিতে থাকা অবৈধ নির্মাণ উচ্ছেদেও বুলডোজার চালিয়েছিল রেল কর্তৃপক্ষ। নির্বাচনের আগেই বাসিন্দাদের নোটিশ দেওয়া হলেও ভোট মিটতেই সেই অভিযান পূর্ণ রূপ পায়। মধ্যরাতে জেসিবি দিয়ে দোকান ও বাড়ি গুঁড়িয়ে দেওয়ায় সেখানেও তৈরি হয়েছে অস্থিরতা।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সরকার পরিবর্তনের পর স্থানীয় স্তরে দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত ক্ষোভ ও দখলদারির বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের এই সক্রিয়তা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। জগদ্দলের এই ঘটনা মূলত রাজনৈতিক পালাবদলের পর প্রশাসনিক ও আইনি জটিলতায় আটকে থাকা ব্যক্তিগত অধিকার পুনরুদ্ধারেরই একটি বহিঃপ্রকাশ। তবে জবরদখল বিরোধী এই মানসিকতা রাজ্যের অন্যান্য অংশেও ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা দেখা দিচ্ছে।