কালীঘাটে মমতার পর এবার ক্যামাক স্ট্রিটেও সরলো অভিষেকের নিরাপত্তা বলয়!
দীর্ঘ ১৫ বছরের শাসনের অবসান ঘটিয়ে বাংলার রাজনৈতিক পটভূমিতে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। রাজ্য প্রশাসনের ক্ষমতা তৃণমূলের হাত থেকে বিজেপির কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া শুরু হতেই বদলে যেতে শুরু করেছে চেনা সব ছবি। মঙ্গলবার সকালে বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কালীঘাটের বাসভবনের সামনে থেকে নিরাপত্তা সরানোর পর, বিকেলেই তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ক্যামাক স্ট্রিটের দপ্তরের সামনে থেকেও বিশেষ নিরাপত্তা প্রত্যাহার করা হয়েছে।
রাজনৈতিক ক্ষমতার ভরকেন্দ্র থেকে সরছে পুলিশি পাহারা
সক্রিয় রাজনীতিতে আসার পর থেকেই ক্যামাক স্ট্রিটের এই কার্যালয়টি ছিল অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের যাবতীয় রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের মূল কেন্দ্র। এখান থেকেই তিনি দলের সাংগঠনিক কাজ পরিচালনা করতেন। ফলে এলাকাটি সর্বদা ত্রিস্তরীয় পুলিশি নিরাপত্তায় মোড়া থাকত এবং সাধারণের প্রবেশ ছিল নিয়ন্ত্রিত। তবে রাজ্যে ক্ষমতার পালাবদলের পর মঙ্গলবার বিকেলেই সেই কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা তুলে নেওয়া হয়। কার্যালয়ের সামনে থাকা পুলিশি ব্যারিকেড ও অতিরিক্ত বাহিনী সরিয়ে ফেলায় দীর্ঘ সময় পর এলাকাটি স্বাভাবিক চেহারায় ফিরেছে।
প্রোটোকল মেনেই প্রত্যাহার করা হচ্ছে বিশেষ সুরক্ষা
এর আগে মঙ্গলবার সকালেই পরিবর্তনের হাওয়া লাগে কালীঘাটে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ির গলির মুখে থাকা দীর্ঘদিনের গার্ডরেল ও ব্যারিকেড সরিয়ে নেওয়া হয়। বর্তমানে সেই রাস্তা দিয়ে সাধারণ মানুষের যানবাহন ও পথচারী চলাচল শুরু হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী, সরকার পরিবর্তনের পর বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী ও প্রভাবশালী পদাধিকারীদের নিরাপত্তা বলয় ধাপে ধাপে কমিয়ে আনা হয়। সেই প্রশাসনিক বিধি মেনেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কার্যালয় ও বাসভবন থেকে এই বিশেষ সুরক্ষা ব্যবস্থা প্রত্যাহার করা হচ্ছে। যদিও নিয়ম মাফিক ন্যূনতম কিছু নিরাপত্তারক্ষী মোতায়েন থাকলেও, আগের সেই কঠোর কড়াকড়ি আর থাকছে না।
এই পরিবর্তনের ফলে সাধারণ জনজীবনে স্বস্তি ফিরলেও, রাজনৈতিক মহলে একে দেখছে এক বিশাল যুগের অবসান হিসেবে। বর্তমানে প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণ নতুন শক্তির হাতে যাওয়ায় প্রোটোকল অনুযায়ী এই স্থানান্তর প্রক্রিয়া আরও গতি পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।