সিউড়িতে জয়ের পরেই জগন্নাথের রাজনৈতিক সৌজন্য, তৃণমূল কার্যালয় থেকে গেরুয়া পতাকা খুলিয়ে দিলেন জয়ী বিজেপি প্রার্থী

ভোটের ফল বেরোতেই যখন রাজ্যের কোণায় কোণায় রাজনৈতিক হিংসার খবর আসছে, ঠিক তখনই বীরভূমের সিউড়িতে দেখা গেল এক বিরল ও সৌজন্যের ছবি। জয়ী হয়েই নিজের দলের অতি-উৎসাহী কর্মীদের বাড়াবাড়ি রুখে দিয়ে রাজনৈতিক শিষ্টাচারের নজির গড়লেন সিউড়ি বিধানসভা কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়।
ঠিক কী ঘটেছিল?
সিউড়িতে বিজেপির জয়ের খবর আসতেই এলাকায় বিজয় মিছিল বের করেন গেরুয়া শিবিরের কর্মী-সমর্থকরা। অভিযোগ, সেই সময় একদল বাইক আরোহী বিজেপি কর্মী স্থানীয় একটি তৃণমূল কংগ্রেস কার্যালয়ে চড়াও হন। সেখানে থাকা ঘাসফুল শিবিরের পতাকা ও ব্যানার ছিঁড়ে ফেলা হয় এবং কার্যালয়ের দখল নিয়ে উপরে বিজেপির পতাকা লাগিয়ে দেওয়া হয়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়ের হস্তক্ষেপ
ঘটনার খবর পাওয়া মাত্রই তড়িঘড়ি সেখানে পৌঁছান জয়ী প্রার্থী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে তিনি নিজেই উদ্যোগী হন। দলীয় কর্মীদের নির্দেশ দিয়ে তৃণমূল কার্যালয়ে লাগানো বিজেপির সমস্ত পতাকা সেখান থেকে তৎক্ষণাৎ খুলে ফেলার নির্দেশ দেন তিনি। জগন্নাথের এই সরাসরি হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হয় এবং বড়সড় গোলমাল এড়ানো সম্ভব হয়।
সৌজন্যের নজির
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বীরভূমের মতো উত্তপ্ত জেলায় যেখানে নির্বাচন পরবর্তী হিংসার ইতিহাস দীর্ঘ, সেখানে জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়ের এই পদক্ষেপ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। জয়ী প্রার্থীর এই ভূমিকা কেবল এলাকায় শান্তি বজায় রাখতে সাহায্য করেনি, বরং প্রমাণ করেছে যে রাজনীতির লড়াই আদর্শের, প্রতিহিংসার নয়। সিউড়ির সাধারণ মানুষও জয়ী প্রার্থীর এই সচেতন রূপের প্রশংসা করেছেন। একদিকে যখন রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পার্টি অফিস দখলের খবর আসছে, তখন জগন্নাথের এই পদক্ষেপ রাজনৈতিক সৌজন্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে রইল।
প্রতিবেদক বর্তমান ঠাকুর।