আগে মেরেছে দিদাকে, এবার ছিঁড়ে খেল মায়ের হাত-পা! কানপুরে পোষ্য জার্মান শেফার্ডের রক্ত হিম করা তাণ্ডব
উত্তরপ্রদেশের কানপুরে পোষা কুকুরের আক্রমণে এক বৃদ্ধার গুরুতর জখম হওয়ার ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। বিকাশ নগরের বাসিন্দা ধীর প্রশান্ত ত্রিবেদীর পোষা জার্মান শেফার্ড ‘রবার্ট’ তার ৭০ বছর বয়সী মা কিরণ ত্রিবেদীকে নৃশংসভাবে আক্রমণ করে। জানা গেছে, কুকুরটি বৃদ্ধার পা কামড়ে ধরে মাটিতে ফেলে দেয় এবং এরপর দুই হাতের মাংস কামড়ে ছিঁড়ে ফেলে। বর্তমানে রক্তাক্ত অবস্থায় তিনি একটি নার্সিং হোমে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
পুরানো ভুলের পুনরাবৃত্তি ও প্রাণঘাতী জেদ
ভয়াবহ বিষয় হলো, এই একই কুকুর গত বছরের ১৯ মার্চ প্রশান্তের ৯১ বছর বয়সী ঠাকুমা মোহিনী ত্রিবেদীকে কামড়ে হত্যা করেছিল। সে সময় নগর নিগম কর্তৃপক্ষ কুকুরটিকে জব্দ করতে চাইলেও প্রশান্ত তীব্র প্রতিবাদ জানান এবং কুকুরটিকে নিজের কাছে রাখার জন্য আইনি লড়াই লড়েন। ভবিষ্যতে এমন ঘটনা ঘটবে না মর্মে হলফনামা দিয়ে তিনি ‘রবার্ট’কে বাড়িতে ফিরিয়ে আনেন। কিন্তু এক বছরের মাথায় সেই একই কুকুর এবার তার নিজের মাকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিল।
ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা ও আইনি জটিলতা
আক্রান্ত মাকে হাসপাতালে ভর্তির সময় প্রশান্ত চিকিৎসকদের কাছে মিথ্যা তথ্য দিয়ে দাবি করেন যে, রাস্তায় ঘুরে বেড়ানো কুকুররা এই হামলা চালিয়েছে। তবে ক্ষতচিহ্নের গভীরতা দেখে চিকিৎসকদের সন্দেহ হলে আসল সত্য প্রকাশ্যে আসে। নগর নিগমের পশু চিকিৎসক ড. আর কে নিরঞ্জন জানিয়েছেন, কুকুরটি এর আগেও মানুষ হত্যা করেছে। মালিকের বিশেষ অনুরোধ ও লিখিত অঙ্গীকারনামার ভিত্তিতেই সেটি ফেরত দেওয়া হয়েছিল। বারবার একই ধরনের হিংস্র আচরণের ফলে এখন মালিকের দায়িত্বজ্ঞানহীনতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে এবং কর্তৃপক্ষ কুকুরটিকে স্থায়ীভাবে সরিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে।