৯ তারিখের পর বিজয় মিছিল, নন্দীগ্রামে শুভেন্দুর বার্তার মাঝেই রাজ্যজুড়ে কড়া সতর্কতা
কলকাতা, ০৬ মে ২০২৬: ভোট-পরবর্তী উত্তপ্ত পরিস্থিতির আবহে বিজয় মিছিল নিয়ে জারি হওয়া নিষেধাজ্ঞা আংশিক শিথিল করল প্রশাসন। নির্বাচন কমিশন ও পুলিশের প্রাথমিক নিষেধাজ্ঞার পর মঙ্গলবার থেকে শর্তসাপেক্ষে মিছিলের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে নন্দীগ্রামের বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী তাঁর কর্মী-সমর্থকদের আগামী ৯ মে-র পর স্থানীয় থানার অনুমতি নিয়ে বিজয় মিছিল করার বার্তা দিয়েছেন। তবে একইসঙ্গে তিনি এলাকায় শান্তি বজায় রাখার ওপর বিশেষ জোর দিয়েছেন।
প্রশাসনের কড়াকড়ি ও শর্তসাপেক্ষ অনুমতি
ভোটের ফলাফল ঘোষণার পর জনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে কলকাতা পুলিশ ও রাজ্য প্রশাসন কড়া অবস্থান নিয়েছিল। ৪ মে ফলাফল প্রকাশের দিন এবং তার পরবর্তী সময়ে যেকোনো ধরণের জন-উৎসব বা বিজয় মিছিলের ওপর সাময়িক নিষেধাজ্ঞা ছিল। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ৫ মে থেকে মিছিল বা সমাবেশের অনুমতি দেওয়া হলেও তা সম্পূর্ণভাবে স্থানীয় থানার সবুজ সংকেত সাপেক্ষে হতে হবে। মূলত উত্তেজনার পারদ কমাতে এবং বড় কোনো সংঘাত এড়াতেই এই আইনি নিয়ন্ত্রণ জারি রাখা হয়েছে।
অশান্তি ও পরিস্থিতির সম্ভাব্য প্রভাব
রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে বিপুল পরিমাণ কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন থাকা সত্ত্বেও একাধিক অপ্রীতিকর ঘটনার খবর সামনে এসেছে। কলকাতার ভবানীপুর, যাদবপুর, বাঘাযতীন এবং এন্টালির মতো এলাকায় রাজনৈতিক সংঘর্ষ ও দলীয় কার্যালয় ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। ব্যারাকপুর ও নোয়াপাড়াতেও প্রার্থীদের হেনস্তার ঘটনা ঘটেছে। রাজনৈতিক মহলের মতে, বিজয় মিছিলকে কেন্দ্র করে এই উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। সেই কারণেই শুভেন্দু অধিকারীর মতো নেতৃত্বরা কর্মীদের সংযত থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন এবং প্রশাসন অনুমতির বিষয়ে ‘ধীরে চলো’ নীতি গ্রহণ করেছে।
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে রাজ্যের সমস্ত থানাকে বিশেষ সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে। প্রতিটি অনুমোদিত মিছিলের গতিপথ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশকে কঠোর নিয়ম মেনে চলার নির্দেশ দিয়েছে নবান্ন। মূলত ভোট-পরবর্তী হিংসা রুখতে এবং আইন-শৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখাই এখন প্রশাসনের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ।