দিলীপ থেকে রূপা ও নিশীথ! বঙ্গে বিজেপির সম্ভাব্য মন্ত্রিসভার তালিকায় হেভিওয়েটদের ছড়াছড়ি

পশ্চিমবঙ্গে ঐতিহাসিক জয়ের পর এখন গেরুয়া শিবিরে সাজো সাজো রব এবং সরকার গড়ার জোর প্রস্তুতি শুরু হয়ে গিয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী কে হবেন সেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের পাশাপাশি সমান্তরালভাবে রাজ্যজুড়ে জল্পনা শুরু হয়েছে নতুন মন্ত্রিসভার সম্ভাব্য সদস্যদের নাম নিয়ে। দীর্ঘদিনের তৃণমূল সরকারের পতনের পর রাজ্যের প্রশাসনিক দায়িত্বভার কাদের হাতে তুলে দেওয়া হবে, তা নিয়ে বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব থেকে শুরু করে অন্দরমহলে চলছে জোর চর্চা। অভিজ্ঞ রাজনীতিক থেকে শুরু করে সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রের প্রতিষ্ঠিত মুখদের নিয়ে একটি ভারসাম্যপূর্ণ ও শক্তিশালী মন্ত্রিসভা গঠনের স্পষ্ট ইঙ্গিত মিলেছে।

সম্ভাব্য মন্ত্রীদের দীর্ঘ তালিকা ও নতুন চমক
দলীয় ও রাজনৈতিক সূত্রের খবর অনুযায়ী বিজেপির প্রথম মন্ত্রিসভায় সাংগঠনিক অভিজ্ঞতার পাশাপাশি তারুণ্য এবং পেশাদারিত্বকে সমান গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সম্ভাব্য মন্ত্রীদের তালিকায় একেবারে প্রথম সারিতে উঠে আসছে প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ, রাজ্যসভার প্রাক্তন সাংসদ রূপা গঙ্গোপাধ্যায়, সজল ঘোষ, রীতেশ তিওয়ারি এবং অগ্নিমিত্রা পলের মতো অতি পরিচিত মুখদের নাম। উত্তরবঙ্গ থেকে প্রতিনিধিত্ব করার দৌড়ে অনেকটাই এগিয়ে রয়েছেন শঙ্কর ঘোষ ও নিশীথ প্রামাণিকের মতো হেভিওয়েট নেতারা।

পাশাপাশি এই গুরুত্বপূর্ণ তালিকায় নাম রয়েছে বঙ্কিম ঘোষ, ডাক্তার ইন্দ্রনীল খাঁ, জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়, বিশিষ্ট চিন্তাবিদ স্বপন দাশগুপ্ত এবং মতুয়া সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি হিসেবে সুব্রত ঠাকুরের। মন্ত্রিসভায় বড়সড় চমক হিসেবে জায়গা করে নিতে পারেন ক্রীড়া জগৎ থেকে আসা বিধায়ক অশোক দিন্দা, ডাক্তার শারদ্বত মুখোপাধ্যায়, দীপাঞ্জন চক্রবর্তী, রাজেশ কুমার, সৌরভ শিকদার এবং পীযূষ কানোরিয়ার মতো বেশ কয়েকজন নবীন ও পেশাদার নেতৃত্ব।

ভারসাম্যের অঙ্ক ও রাজ্য রাজনীতিতে প্রভাব
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে এই সম্ভাব্য মন্ত্রিসভার তালিকা থেকে একটি বিষয় অত্যন্ত স্পষ্ট যে বিজেপি তাদের প্রথম সরকারে সমাজের সমস্ত স্তরের মানুষের প্রতিনিধিত্ব সুনিশ্চিত করতে চাইছে। একদিকে উত্তরবঙ্গ থেকে দক্ষিণবঙ্গের ভৌগোলিক ভারসাম্য বজায় রাখা হচ্ছে, আর অন্যদিকে মতুয়া, আদিবাসী, চিকিৎসকমহল থেকে শুরু করে সাধারণ স্তরের কর্মীদের একজোট করে একটি নিশ্ছিদ্র প্রশাসনিক পরিকাঠামো তৈরির লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছে পদ্ম-শিবির। বিভিন্ন পেশা এবং সম্প্রদায়ের সঠিক মেলবন্ধনের এই কৌশলগত পদক্ষেপ রাজ্য প্রশাসনের কাজে যেমন দ্রুত গতি আনবে, তেমনই আগামী দিনে বাংলার মাটিতে বিজেপির রাজনৈতিক ভিতকে আরও সুদৃঢ় করবে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। দলের হাইকম্যান্ডের ছাড়পত্র পেলেই এই নামের তালিকায় চূড়ান্ত সিলমোহর পড়বে।

প্রতিবেদক: বর্তমান ঠাকুর।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *