বসিরহাটে ফের রাজনৈতিক রক্তপাত, বিজেপি কর্মীকে লক্ষ্য করে গুলিবৃষ্টিতে তুঙ্গে উত্তেজনা
উত্তর ২৪ পরগনার মধ্যমগ্রামে শুভেন্দু অধিকারীর আপ্ত সহায়ক চন্দ্রনাথ রথের ওপর হামলার রেশ কাটতে না কাটতেই এবার উত্তপ্ত হয়ে উঠল বসিরহাট। বসিরহাট দক্ষিণ বিধানসভার গোডাউন পাড়া এলাকায় রোহিত রায় নামে এক সক্রিয় বিজেপি কর্মীকে গুলি করে খুনের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এবং রাজনৈতিক পরিবেশ অগ্নিগর্ভ হয়ে উঠেছে।
আক্রান্ত বিজেপি কর্মী ও তৃণমূলের বিরুদ্ধে অভিযোগ
স্থানীয় সূত্রে খবর, মঙ্গলবার রাতে রোহিত রায়কে লক্ষ্য করে অতর্কিতে গুলি চালায় দুষ্কৃতীরা। গুরুতর জখম অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে প্রথমে বসিরহাট জেলা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় চিকিৎসকরা তাঁকে কলকাতার হাসপাতালে স্থানান্তরিত করেন। বিজেপির পক্ষ থেকে সরাসরি অভিযোগ তোলা হয়েছে যে, তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীরাই এই হামলার নেপথ্যে রয়েছে। যদিও শাসক দলের পক্ষ থেকে এই অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে।
চোপড়াতেও আক্রান্ত বিজেপি নেতা
এদিকে বসিরহাটের পাশাপাশি উত্তর দিনাজপুরের চোপড়াতেও রাজনৈতিক হিংসার খবর পাওয়া গেছে। কালাগছ এলাকায় শ্যামল সরকার নামে এক বিজেপি নেতাকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। জানা গিয়েছে, গত মঙ্গলবার একটি মদের দোকানে লুটপাটে বাধা দিয়েছিলেন তিনি। সেই আক্রোশ থেকেই বুধবার একটি চায়ের দোকানে বসে থাকাকালীন তাঁর ওপর হামলা চালানো হয়। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে একটি ব্যাগ উদ্ধার করেছে, যাতে তাজা বোমা ছিল বলে জানা গেছে। এই ঘটনায় জড়িত সন্দেহে পুলিশ দু’জনকে আটক করেছে।
ঘটনার প্রভাব ও বর্তমান পরিস্থিতি
নির্বাচন পরবর্তী এই ধারাবাহিক হামলার ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়েছে। বিরোধীদের দাবি, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বেছে বেছে তাঁদের কর্মীদের লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে। অন্যদিকে, পুলিশের পক্ষ থেকে এলাকায় টহলদারি বাড়ানো হয়েছে এবং দোষীদের শনাক্ত করতে তদন্ত শুরু হয়েছে। বসিরহাট ও চোপড়া—উভয় জায়গাতেই বর্তমানে বিশাল পুলিশ বাহিনী মোতায়েন রয়েছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য।