বায়ুসেনার চাকরি ছেড়ে শুভেন্দুর ছায়াসঙ্গী, কে এই নিহত চন্দ্রনাথ রথ!
বুধবার রাতে উত্তর ২৪ পরগনার মধ্যমগ্রামে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর আপ্তসহায়ক চন্দ্রনাথ রথের রহস্যময় হত্যাকাণ্ড ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। পেশাদার খুনিদের হাতে প্রাণ হারানো এই চন্দ্রনাথ দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে শুভেন্দু অধিকারীর বিশ্বস্ত অনুগামী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তাঁর আকস্মিক মৃত্যুতে শুভেন্দু শিবিরের সাংগঠনিক ও ব্যক্তিগত স্তরে বড়সড় ধাক্কা লেগেছে বলে মনে করা হচ্ছে।
বায়ুসেনা থেকে রাজনীতির অলিন্দে
পূর্ব মেদিনীপুরের চণ্ডীপুরের বাসিন্দা চন্দ্রনাথ রথ মেধাবী ছাত্র হিসেবেই পরিচিত ছিলেন। রহড়া রামকৃষ্ণ মিশন থেকে পড়াশোনা শেষ করার পর তিনি ভারতীয় বায়ুসেনায় কর্মজীবন শুরু করেন। তবে বায়ুসেনার চাকরিতে ১৮ বছর কাটানোর পর আধ্যাত্মিকতার টানে তিনি সন্ন্যাস গ্রহণের কথা ভেবেছিলেন। পরবর্তী সময়ে কর্পোরেট সেক্টরে কাজ করলেও শেষ পর্যন্ত শুভেন্দু অধিকারীর সান্নিধ্যে সরাসরি রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন। তাঁর মা হাসি রথও তৃণমূলের পঞ্চায়েত সমিতির কর্মাধ্যক্ষ ছিলেন, যিনি বর্তমানে বিজেপির সঙ্গে যুক্ত।
তৃণমূল জমানা থেকে ছায়াসঙ্গী
শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে চন্দ্রনাথের পরিবারের সম্পর্ক নব্বইয়ের দশকের শেষভাগ থেকে। তবে ২০১৯ সালে শুভেন্দু যখন রাজ্যের জলসম্পদ মন্ত্রী, তখন থেকেই চন্দ্রনাথ তাঁর ছায়াসঙ্গী এবং আপ্তসহায়ক হিসেবে কাজ শুরু করেন। ২০২০ সালে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সময় শুভেন্দু তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দিলে চন্দ্রনাথও তাঁর অনুগামী হন। বিরোধী দলনেতার যাবতীয় দৈনন্দিন কর্মসূচি ও সাংগঠনিক কাজের নেপথ্যে মূল কারিগর ছিলেন তিনি। এমনকি রাজনৈতিক মহলে জল্পনা ছিল, ভবিষ্যতে বড় কোনো প্রশাসনিক দায়িত্বে তাঁকে দেখা যেতে পারে।
পরিকল্পিত হামলার প্রভাব
মধ্যমগ্রামের দোহারিয়া এলাকায় চন্দ্রনাথের স্করপিও গাড়ি আটকে পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জ থেকে গুলি চালায় দুষ্কৃতীরা। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, এই হত্যাকাণ্ড অত্যন্ত সুপরিকল্পিত এবং এর পেছনে কোনো পেশাদার চক্র কাজ করেছে। সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে আততায়ীদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। চন্দ্রনাথের মতো একজন অতি বিশ্বস্ত ও গুরুত্বপূর্ণ সহযোগীর মৃত্যুতে শুভেন্দু অধিকারীর নিরাপত্তার অভাব এবং রাজনৈতিক রেষারেষি আরও চরম আকার ধারণ করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এই ঘটনায় আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে।