“স্বামীকে তো আর পাব না, খুনিদের এনকাউন্টার চাই!” ডিজি-কে সামনে পেয়েই আর্তনাদ নিহত চন্দ্রনাথের স্ত্রীর
মধ্যমগ্রামের দোহাড়িয়ায় বুধবার রাতে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর আপ্তসহায়ক চন্দ্রনাথ রথের নৃশংস হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে হাসপাতালে রাজ্য পুলিশের ডিজি সিদ্ধনাথ গুপ্ত নিহতের পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে গেলে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন চন্দ্রনাথের স্ত্রী। স্বামীর খুনিদের কঠোর শাস্তি এবং ‘এনকাউন্টার’-এর দাবি জানান তিনি। পুলিশের পক্ষ থেকে ঘটনার তদন্ত শুরু হলেও এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় এলাকায় তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে।
তদন্তে উঠে আসা প্রাথমিক সূত্র ও পুলিশের তৎপরতা
ঘটনার তদন্তে নেমে পুলিশ ইতিমধ্যেই একটি সন্দেহভাজন চার চাকার গাড়ি বাজেয়াপ্ত করেছে। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, গাড়িটির নম্বরপ্লেট শিলিগুড়ির হলেও সেটি আসলে ভুয়ো। ঘটনাস্থল থেকে বেশ কিছু তাজা কার্তুজ এবং গুলির খোল উদ্ধার করা হয়েছে। বাইকে করে আসা দুষ্কৃতীরা চন্দ্রনাথের গাড়ি লক্ষ্য করে লক্ষ্যভ্রষ্টহীনভাবে গুলি চালিয়েছিল বলে অভিযোগ। সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে দুষ্কৃতীদের শনাক্ত করার চেষ্টা চালাচ্ছে পুলিশ। ডিজি সিদ্ধনাথ গুপ্ত জানিয়েছেন, তদন্তের স্বার্থে সব তথ্য এখনই প্রকাশ করা সম্ভব নয়, তবে দ্রুত অপরাধীদের গ্রেফতার করাই এখন পুলিশের মূল লক্ষ্য।
রাজনৈতিক চাপানউতোর ও আইনশৃঙ্খলার প্রশ্ন
এই হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে শাসক ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে রাজনৈতিক বাদানুবাদ তুঙ্গে উঠেছে। বিজেপি নেতৃত্বের অভিযোগ, এটি একটি পরিকল্পিত রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড এবং এর পেছনে স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্বের যোগসাজশ রয়েছে। অন্যদিকে, হাসপাতালের সামনে গভীর রাত পর্যন্ত বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের বিক্ষোভ এবং উত্তেজনার জেরে পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠে। যদিও দলীয় নেতৃত্ব শান্তি বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন। গুলিতে আহত চন্দ্রনাথের গাড়িচালকের অবস্থাও আশঙ্কাজনক, বর্তমানে তিনি কলকাতার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। এই ঘটনা রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্নের সৃষ্টি করেছে।