অপারেশন সিঁদুরের বর্ষপূর্তি: সীমান্তের ওপার আর ‘সেফ জোন’ নয়, পাকিস্তানকে চরম বার্তা মোদী সরকারের!
পহেলগাঁও হামলার প্রতিশোধ নিতে শুরু হওয়া ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর প্রথম বর্ষপূর্তিতে পাকিস্তানকে কড়া কূটনৈতিক ও সামরিক বার্তা দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। বৃহস্পতিবার এই বিশেষ দিনটি স্মরণ করতে প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর মন্ত্রিসভার শীর্ষ সদস্যরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজেদের প্রোফাইল ছবি পরিবর্তন করে ভারতীয় সেনাবাহিনীর শৌর্যকে সম্মান জানিয়েছেন। পহেলগামে নিরীহ ভারতীয়দের ওপর বর্বরোচিত হামলার জবাবে ভারতের সশস্ত্র বাহিনী যে বীরত্ব প্রদর্শন করেছিল, তাকে দেশপ্রেমের এক অনন্য দৃষ্টান্ত হিসেবে উল্লেখ করেছেন প্রধানমন্ত্রী।
সীমান্তের ওপারেও আর নিরাপদ নয় সন্ত্রাসবাদীরা
অপারেশন সিঁদুরের সাফল্য উদযাপন করতে গিয়ে প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং এক ভিডিও বার্তায় প্রতিবেশী রাষ্ট্রকে চরম সতর্কবার্তা দিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান, ভারত সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিলে সীমান্তের ওপারও আর সন্ত্রাসবাদী ও তাদের মদতদাতাদের জন্য নিরাপদ আশ্রয় থাকবে না। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, বিদেশমন্ত্রীসহ কেন্দ্রীয় সরকারের শীর্ষ নেতৃত্ব এই দিনটিতে সংহতি প্রকাশ করে বুঝিয়ে দিয়েছেন যে, ভারতের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে বর্তমান সরকার কোনো ধরনের আপস করতে রাজি নয়।
অভিযানের প্রেক্ষাপট ও সামরিক প্রভাব
২০২৫ সালের ২২ এপ্রিল পহেলগাঁওয়ে এক ভয়াবহ জঙ্গি হামলায় ২৬ জন ভারতীয় নাগরিক প্রাণ হারান। এই ঘটনার পর ভারত অত্যন্ত ক্ষিপ্রতার সঙ্গে ‘অপারেশন সিঁদুর’ শুরু করে। মাত্র চার দিনের ঝোড়ো অভিযানে পাকিস্তান ও পাকিস্তান-অধিকৃত কাশ্মীরের (পিওকে) ৯টি প্রধান জঙ্গি আস্তানা গুঁড়িয়ে দেয় ভারতীয় সেনাবাহিনী। এই অভিযানে লস্কর-ই-তৈবা ও জইশ-ই-মহম্মদের শীর্ষ কমান্ডারসহ শতাধিক জঙ্গি নিকেশ হয়েছিল। এক বছর পর এই বর্ষপূর্তি পালনের মাধ্যমে ভারত বিশ্বমঞ্চে নিজের সামরিক সক্ষমতা ও সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি পুনরায় প্রতিষ্ঠিত করল। বিশেষজ্ঞ মহলের মতে, এই কড়া বার্তা ভবিষ্যতে সীমান্তপারের উস্কানি মোকাবিলায় ভারতকে কৌশলগতভাবে আরও শক্তিশালী অবস্থানে রাখবে।