অভিষেকের রক্ষাকবচ নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে রাজ্য সরকার!
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের রক্ষাকবচ নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে রাজ্য, শুনানি দীপাবলির পর
নিজস্ব প্রতিবেদন: তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে কলকাতা হাইকোর্টের দেওয়া রক্ষাকবচের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন জানাল রাজ্য সরকার। দীপাবলির ছুটির পর শীর্ষ আদালতে এই মামলার শুনানি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
গত ২৫ অগস্ট কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে রক্ষাকবচ প্রদান করেন। হাইকোর্টের সেই নির্দেশের ওপর স্থগিতাদেশ চেয়ে রাজ্য সরকার আবেদন জানালেও, তা খারিজ হয়ে যায়। এরপরই রাজ্য সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে।
রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে আদালতে মূলত দুটি প্রধান বিষয়ে আপত্তি জানানো হয়েছে। প্রথমত, রাজ্যের যুক্তি, অভিষেকের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলি অত্যন্ত গুরুতর। ফৌজদারি মামলায় আগাম জামিনের আইনি সুযোগ থাকা সত্ত্বেও কেন তিনি রক্ষাকবচ প্রার্থনা করলেন, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে রাজ্য। দ্বিতীয়ত, রাজ্যের দাবি, একাধিক এফআইআর একসঙ্গে অন্তর্ভুক্ত করে শুনানি চালানো আইনত যথাযথ নয়। প্রতিটি মামলার জন্য আলাদা আইনি প্রক্রিয়ার প্রয়োজন। কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে একসঙ্গে সব মামলায় এভাবে সুরক্ষা প্রদান করা উচিত নয় বলেও সরকার আদালতে জানিয়েছে।
উল্লেখ্য, অভিষেকের বিরুদ্ধে মোট ১৬টি এফআইআর রয়েছে। তাঁর অভিযোগ, বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর থেকেই রাজনৈতিক প্রতিহিংসার বশবর্তী হয়ে একের পর এক মিথ্যা মামলা করা হচ্ছে। এর মধ্যে ভবানীপুর, কালীতলা ও বিষ্ণুপুর থানার তিনটি মামলায় তাঁকে রক্ষাকবচ দিয়েছে হাইকোর্ট।
আদালত পর্যবেক্ষণে জানিয়েছিল, কালীতলার ঘটনাটি ২০১৭ সালের এবং বিষ্ণুপুরের ঘটনাটি ২০২০ সালের। কিন্তু ঘটনার দীর্ঘ সময় পর, চলতি বছরের জুন মাসে অভিযোগ দায়ের হয়েছে, যেখানে অভিষেকের সরাসরি যোগ থাকা নিয়েও ধোঁয়াশা রয়েছে। তবে মামলাগুলি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত কি না, সে বিষয়ে আদালত চূড়ান্ত কোনো মন্তব্য করেনি।
হাইকোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী, পুলিশ তদন্ত চালিয়ে যেতে পারবে, তবে অভিষেককে জিজ্ঞাসাবাদ করতে হলে অন্তত ৪৮ ঘণ্টা আগে নোটিস দিতে হবে। এছাড়া তদন্তে সহযোগিতা করা এবং আদালতের অনুমতি ছাড়া বিদেশে না যাওয়ার শর্তও দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে, ২৩ নভেম্বরের মধ্যে তদন্তের অগ্রগতির রিপোর্ট পুলিশের কাছে তলব করেছে হাইকোর্ট। বর্তমানে ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের রক্ষাকবচ বহাল রয়েছে। এখন সুপ্রিম কোর্টে রাজ্যের আবেদনের প্রেক্ষিতে কী নির্দেশ আসে, সেদিকেই নজর সব মহলের।