মেধাবী ছাত্র থেকে রাজনীতির আঙিনায়, কে এই চন্দ্রনাথ রথ
রাজ্যে নতুন সরকারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানের ঠিক তিন দিন আগে খাস কলকাতায় প্রকাশ্য দিবালোকে দুষ্কৃতী হামলায় প্রাণ হারালেন শুভেন্দু অধিকারীর দীর্ঘদিনের আপ্তসহায়ক চন্দ্রনাথ রথ। বুধবার রাতে মধ্যমগ্রামে অত্যন্ত সুপরিকল্পিত এই হত্যাকাণ্ড নাড়িয়ে দিয়েছে প্রশাসনিক মহলকে। প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণ অনুযায়ী, গাড়ি থামিয়ে বাইকে আসা দুষ্কৃতীরা খুব কাছ থেকে পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জে গুলি করে চন্দ্রনাথবাবুকে। ঘটনার ধরনে তদন্তকারীদের প্রাথমিক অনুমান, এটি পেশাদার ঘাতকদের দ্বারা সম্পাদিত কোনো গভীর রাজনৈতিক বা ব্যক্তিগত প্রতিহিংসার অংশ।
মেধাবী ছাত্র থেকে রাজনীতির আঙিনায়
পূর্ব মেদিনীপুরের চণ্ডীপুর এলাকার বাসিন্দা চন্দ্রনাথের জীবনপ্রবাহ ছিল বেশ বৈচিত্র্যময়। রহড়া রামকৃষ্ণ মিশনের প্রাক্তনী এই যুবক কর্মজীবনের শুরুতে ভারতীয় বায়ুসেনায় যোগ দিয়েছিলেন। পরবর্তীকালে আধ্যাত্মিকতার টান এবং রাজনীতির আকর্ষণে চাকরি ছেড়ে ফিরে আসেন ময়দানে। কর্পোরেট জগতে কাজ করার অভিজ্ঞতা থাকলেও রাজনীতির সঙ্গে তাঁর পরিবারের দীর্ঘদিনের যোগাযোগ ছিল। ২০১৯ সালে শুভেন্দু অধিকারী রাজ্যের জলসম্পদ মন্ত্রী থাকাকালীন তাঁর আপ্তসহায়ক হিসেবে কাজ শুরু করেন চন্দ্রনাথ। গত কয়েক বছরে তিনি কার্যত ছায়াসঙ্গী হিসেবে অধিকারীর প্রশাসনিক ও ব্যক্তিগত কাজকর্ম দক্ষতার সাথে সামলে আসছিলেন।
তদন্তে বিশেষ দল ও গোয়েন্দা তৎপরতা
হত্যাকাণ্ডের কিনারা করতে রাজ্য পুলিশ ও সিআইডি-র সমন্বয়ে একটি বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট) গঠন করা হয়েছে। ঘটনাস্থলে ইতিমধ্যেই হাজির হয়েছেন রাজ্য পুলিশের উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা। পুলিশ সূত্রে খবর, ঘাতকদের ব্যবহৃত গাড়িটি উদ্ধার করা গেলেও তাতে ভুয়ো নম্বর প্লেট লাগানো ছিল। এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে দুষ্কৃতীদের শনাক্ত করার কাজ চলছে। বারাসত মেডিক্যাল কলেজে তিন সদস্যের বিশেষজ্ঞ দল ময়নাতদন্তের প্রক্রিয়া শুরু করেছে।
শপথ অনুষ্ঠানের প্রাক্কালে এমন হাই-প্রোফাইল খুনের ঘটনায় আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে মধ্যমগ্রাম ও সংলগ্ন যশোর রোডে অতিরিক্ত কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। রাজনৈতিক মহলে চর্চা ছিল, নতুন সরকারে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পেতে পারতেন চন্দ্রনাথ, কিন্তু সেই সম্ভাবনার আগেই এই হত্যাকাণ্ড রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণকে আরও জটিল করে তুলল।