চিপ তৈরিতে বিপ্লব, ভারতকে আত্মনির্ভর করতে বড় পদক্ষেপ নিলেন অশ্বিনী বৈষ্ণব!

 

ইলেকট্রনিক্স উৎপাদন ও সেমিকন্ডাক্টর খাতে বড় পদক্ষেপ: নতুন পোর্টাল চালু ও বিনিয়োগের অনুমোদন

নিজস্ব প্রতিবেদন: ‘আত্মনির্ভর ভারত’ গড়ার লক্ষ্যকে আরও গতিশীল করতে কেন্দ্রীয় সরকার ‘সেমিকন ২.০’ (Semicon 2.0) পোর্টাল চালু করেছে। ভারতকে আন্তর্জাতিক সেমিকন্ডাক্টর উৎপাদনের কেন্দ্রে পরিণত করার উদ্দেশ্যেই এই নতুন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব জানান, ইন্ডিয়া সেমিকন্ডাক্টর মিশনের অধীনে ১,২৭,৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দে ‘সেমিকন ২.০’ অনুমোদিত হয়েছে। এই পর্যায়ে চিপের নকশা, উন্নত যন্ত্রপাতি, কাঁচামাল, নতুন ফ্যাব ইউনিট, গবেষণা এবং দক্ষ জনশক্তি তৈরির ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। নতুন পোর্টালের মাধ্যমে প্রকল্পের বিভিন্ন পর্যায়ে আবেদন করা সম্ভব হবে।

একই সঙ্গে, ইলেকট্রনিক্স কম্পোনেন্টস ম্যানুফ্যাকচারিং স্কিম (ECMS)-এর আওতায় ১২টি নতুন সংস্থার বিনিয়োগ প্রস্তাব অনুমোদন করেছে কেন্দ্র। এই প্রকল্পগুলিতে প্রায় ৭,৫০৩ কোটি টাকা বিনিয়োগের প্রস্তাব রয়েছে, যা ৩৯,০৪৫ কোটি টাকার উৎপাদন এবং ৭,১২৭টি প্রত্যক্ষ কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করতে পারে। গুজরাট, কর্ণাটক, মধ্যপ্রদেশ, মহারাষ্ট্র, পঞ্জাব, তামিলনাড়ু ও উত্তরপ্রদেশ জুড়ে এই প্রকল্পগুলি কার্যকর হবে। এখানে মাল্টি-লেয়ার পিসিবি, ব্যাটারির অ্যানোড-ক্যাথোড উপকরণ, কপার ফয়েল ও বিশেষ সিরামিকের মতো গুরুত্বপূর্ণ সামগ্রী উৎপাদিত হবে।

মন্ত্রী আরও জানান, ইলেকট্রনিক্স উৎপাদনে ভারত এখন কেবল যন্ত্রাংশ জোড়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, বরং ব্যাটারি সেল ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ উপকরণ উৎপাদনেও সক্ষমতা বাড়াচ্ছে।

সেমিকন ইন্ডিয়া প্রকল্পের প্রথম পর্যায়ের অগ্রগতির পরিসংখ্যান তুলে ধরে জানানো হয়েছে, ছয়টি রাজ্যে ১২টি প্রকল্পে ১.৬৪ লক্ষ কোটি টাকার বেশি বিনিয়োগ অনুমোদিত হয়েছে। এর মধ্যে পাঁচটি প্রকল্পে ইতিমধ্যে বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু হয়েছে। এ ছাড়া, চিপ তৈরির প্রযুক্তিতে প্রায় ৭০ হাজার পড়ুয়াকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে এবং ১০৫টি স্টার্টআপকে ইডিএ (EDA) টুলস ব্যবহারের সুযোগ দেওয়া হয়েছে।

কেন্দ্রীয় সরকারের তথ্য অনুযায়ী, ECMS-এর আওতায় এখন পর্যন্ত ১৬টি রাজ্যে ১১৮টি আবেদন অনুমোদন পেয়েছে। এতে মোট বিনিয়োগের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৭৭,০৫১ কোটি টাকা, যা থেকে ৫,৭৩,১৪৬ কোটি টাকার উৎপাদন এবং ৮১,৭৫৫টি প্রত্যক্ষ কর্মসংস্থান সৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। বিদেশ থেকে ইলেকট্রনিক্স যন্ত্রাংশ আমদানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে দেশে পূর্ণাঙ্গ উৎপাদন পরিকাঠামো গড়ে তোলাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *