শুভেন্দুর ছায়াসঙ্গী খুনে উত্তাল বাংলা, দোষীদের শাস্তিতে এবার সিবিআই তদন্ত চায় তৃণমূলও!
রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের আবহেও থামছে না রাজনৈতিক হিংসা। মধ্যমগ্রাম সংলগ্ন এলাকায় বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর ব্যক্তিগত সহায়ক চন্দ্রনাথ রথের নৃশংস খুনের ঘটনায় রণক্ষেত্র হয়ে উঠেছে বঙ্গ রাজনীতি। গত বুধবার রাতে ১০ রাউন্ড গুলি এবং নিখুঁত পরিকল্পনা করে চালানো এই হামলাকে ‘কোল্ড ব্লাডেড মার্ডার’ বলে আখ্যা দিয়েছেন বিজেপি নেতৃত্ব। এই ঘটনার পরপরই এলাকায় পুলিশি নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ তুলে সরব হয়েছেন খড়গপুর সদরের জয়ী বিজেপি প্রার্থী দিলীপ ঘোষ।
তদন্তে পেশাদারিত্বের ছাপ ও রাজনৈতিক চাপানউতোর
পুলিশি তদন্তে উঠে এসেছে, আততায়ীরা নকল নম্বর প্লেট ব্যবহার করে অত্যন্ত পেশাদার কায়দায় এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে দিলীপ ঘোষ সাফ জানিয়েছেন, বিজেপি ক্ষমতায় এলেও পুলিশি ব্যবস্থার আমূল সংস্কার প্রয়োজন। তাঁর দাবি, তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব এবং বিজেপি কর্মীদের ওপর পরিকল্পিত দমন-পীড়নের জেরেই এমন ঘটনা ঘটছে। অন্যদিকে, এই ঘটনার নিন্দা জানিয়ে অভাবনীয়ভাবে সিবিআই তদন্তের দাবি তুলেছে তৃণমূল কংগ্রেস। জোড়াফুল শিবিরের দাবি, গত কয়েক দিনে তাদেরও একাধিক কর্মী নিহত হয়েছেন, তাই নিরপেক্ষ তদন্তের স্বার্থে আদালতের তত্ত্বাবধানে কেন্দ্রীয় সংস্থাকে দায়িত্ব দেওয়া হোক।
ক্ষমতা বদলের সন্ধিক্ষণে নতুন অস্থিরতা
দীর্ঘ দেড় দশকের তৃণমূল শাসনের অবসান ঘটিয়ে ২০৭টি আসন নিয়ে রাজ্যে নতুন সরকার গড়তে চলেছে বিজেপি। মুখ্যমন্ত্রী পদের অন্যতম দাবিদার শুভেন্দু অধিকারীর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ সহকারীর মৃত্যুতে স্বাভাবিকভাবেই প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক মহলে উদ্বেগ ছড়িয়েছে। নিহতের মায়ের বয়ান এবং পুলিশের উদ্ধার করা তথ্য অনুযায়ী, এই খুনের নেপথ্যে গভীর কোনো ষড়যন্ত্র থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। নতুন সরকার গঠনের তোড়জোড়ের মাঝেই এই হত্যাকাণ্ড আইনশৃঙ্খলা রক্ষার ক্ষেত্রে বড়সড় চ্যালেঞ্জের মুখে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে প্রশাসনকে।
এক ঝলকে
- মধ্যমগ্রামের কাছে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর ব্যক্তিগত সহকারী চন্দ্রনাথ রথকে গুলি করে খুন।
- ঘটনায় পুলিশি নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ তুলে সরব দিলীপ ঘোষসহ রাজ্য বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব।
- তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে ঘটনার নিন্দা জানিয়ে নিরপেক্ষ সিবিআই তদন্তের পাল্টা দাবি।
- ১০ রাউন্ড গুলি ও নকল নম্বর প্লেট ব্যবহারের তথ্যে পেশাদার খুনিদের যোগসূত্র দেখছে পুলিশ।