ভোটার তালিকায় গণছাঁটাইয়েও ঘাসফুল ঝড়, ভেঙে চুরমার এসআইআর মিথ
নির্বাচন কমিশনের বিশেষ ভোটার তালিকা সংশোধন বা ‘এসআইআর’ প্রক্রিয়ায় বিপুল সংখ্যক নাম বাদ পড়া নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে যে আশঙ্কার মেঘ তৈরি হয়েছিল, ভোটের ফলাফলে তার উল্টো ছবি ধরা পড়ল। প্রাথমিক ধারণা ছিল, বড় অঙ্কের নাম বাদ পড়লে তা শাসকদলের ভোটব্যাংকে ধস নামাবে। কিন্তু পরিসংখ্যান বলছে, সবচেয়ে বেশি নাম বাদ পড়া ২০টি বিধানসভা কেন্দ্রের মধ্যে ১৩টিতেই জয়লাভ করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। ফলে ‘এসআইআর’ ফ্যাক্টর কাজ করবে—এমন রাজনৈতিক মিথ কার্যত নস্যাৎ হয়ে গেল।
নাম বাদ পড়ার তালিকায় শীর্ষে থাকা আসনেও শাসকদলের জয়
গত জুন মাস থেকে মৃত ও অযোগ্য ভোটার চিহ্নিত করতে নির্বাচন কমিশন এসআইআর প্রক্রিয়া শুরু করে। এই তালিকায় মুর্শিদাবাদের সামশেরগঞ্জ শীর্ষে ছিল, যেখানে বাদ পড়েছিল ৭৪ হাজার ৭৭৫ জন ভোটারের নাম। এত বড় ধাক্কার পরেও তৃণমূল সেখানে সাড়ে সাত হাজারেরও বেশি ভোটে জিতেছে। একইভাবে লালগোলা, ভগবানগোলা, রঘুনাথগঞ্জ, মেটিয়াবুরুজ এবং সুতির মতো আসনগুলোতে যেখানে ৪০ থেকে ৫৫ হাজারের বেশি নাম বাদ গিয়েছিল, সেখানেও ঘাসফুল ফুটেছে। কুড়িটি আসনের মধ্যে তৃণমূল ১৩টি, বিজেপি ৬টি এবং কংগ্রেস ১টি আসনে জয়ী হয়েছে।
ফলাফলে প্রভাব ও রাজনৈতিক সমীকরণ
রাজ্যের ১৮৭টি আসনে ৫ হাজারের বেশি ভোটারের নাম বাদ গিয়েছিল। এর মধ্যে ১১৯টিতে বিজেপি এবং ৬৫টিতে তৃণমূল জিতেছে। তবে গভীর বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, ৪৭টি আসনে নাম বাদ পড়া ভোটারের সংখ্যা জয়ী প্রার্থীর ব্যবধানের চেয়েও বেশি। এর মধ্যে বিজেপির জেতা ১১৯টি আসনের মধ্যে ২৮টিতে বাদ যাওয়া ভোটারের সংখ্যা জয়ের ব্যবধানকে ছাপিয়ে গিয়েছে। রাজনৈতিক মহলের মতে, এই ভোটাররা তালিকায় থাকলে ফলাফলে বড় ধরনের রদবদল হতে পারত। বিশেষ করে গতবার তৃণমূলের দখলে থাকা ২৬টি আসনে এবার বিজেপি জয়ী হয়েছে, যেখানে এসআইআর প্রক্রিয়ায় নাম বাদ পড়ার সংখ্যা ছিল চোখে পড়ার মতো। তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি, এই প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার কারণেই কয়েকটি আসনে তাদের পরাজয় নিশ্চিত হয়েছে।