মমতা আর মুখ্যমন্ত্রী নন, বিধানসভা ভেঙে দিলেন রাজ্যপাল: বাংলায় শেষ তৃণমূল জমানার অবসান?
পশ্চিমবঙ্গ রাজনীতির এক ঐতিহাসিক সন্ধিক্ষণে বিধানসভা ভেঙে দেওয়ার নির্দেশ দিলেন রাজ্যপাল আর.এন. রবি। বৃহস্পতিবার রাজভবন থেকে জারি করা এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, সংবিধানের ১৭৪ নম্বর অনুচ্ছেদের ২ নম্বর দফার (বি) উপধারা অনুযায়ী প্রদত্ত ক্ষমতা বলে ৭ মে, ২০২৬ থেকে কার্যকর হওয়া এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে বর্তমান বিধানসভা বিলুপ্ত করা হলো। এর ফলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দীর্ঘ ১৫ বছরের প্রধানমন্ত্রিত্বের আনুষ্ঠানিক অবসান ঘটল।
রাজিনামা ছাড়াই ক্ষমতাচ্যুত মমতা
সদ্য সমাপ্ত বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের পরাজয় সত্ত্বেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রথা মেনে পদত্যাগ করতে অস্বীকার করেন। তাঁর দাবি ছিল, কেন্দ্রীয় বাহিনী ও নির্বাচন কমিশনের কারসাজিতে এই ফল হয়েছে, তাই তিনি রাজভবনে গিয়ে ইস্তফা দেবেন না। এই নজিরবিহীন পরিস্থিতির কারণে রাজ্যপাল তাঁকে ‘কেয়ারটেকার’ বা তত্ত্বাবধায়ক মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালনের অনুরোধ জানানোর সুযোগ পাননি। ফলে নতুন সরকার শপথ না নেওয়া পর্যন্ত প্রশাসনিক প্রধান হিসেবে রাজ্যপালই এখন রাজ্যের শাসনভার পরিচালনা করবেন।
বিজেপির বিপুল জয় ও নতুন সরকারের রূপরেখা
নির্বাচনী পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, ২৯৪টি আসনের মধ্যে ২০৭টি আসনে জয়লাভ করে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে ভারতীয় জনতা পার্টি। অন্যদিকে, তৃণমূল কংগ্রেস মাত্র ৮০টি আসনে সংকুচিত হয়ে পড়েছে। খোদ নিজের নির্বাচনী কেন্দ্র ভবানীপুরে শুভেন্দু অধিকারীর কাছে ১৫ হাজার ভোটে পরাজিত হয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দুর্নীতির অভিযোগ এবং দীর্ঘ সময়ের প্রতিষ্ঠানবিরোধী হাওয়াকে কাজে লাগিয়ে দক্ষিণবঙ্গের তৃণমূল দুর্গে বড়সড় ধস নামাতে সক্ষম হয়েছে গেরুয়া শিবির।
বিজেপি সূত্রের খবর, আগামী ৯ মে রবীন্দ্রজয়ন্তীর দিন কলকাতার ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে নতুন সরকারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান আয়োজনের পরিকল্পনা করা হচ্ছে।
তৃণমূলের অবস্থান ও প্রতিবাদের সুর
নির্বাচনী ফলাফলকে স্রেফ প্রত্যাখ্যান করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একে “জোরপূর্বক হারানো” হিসেবে অভিহিত করেছেন। তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি, ইস্তফা না দেওয়াটা তাঁদের একটি গণতান্ত্রিক প্রতিবাদের অংশ। দলের মুখপাত্র কুনাল ঘোষের মতে, তাঁরা বিজেপির বিরুদ্ধে নয়, বরং নির্বাচন কমিশনের একপাক্ষিক ভূমিকার বিরুদ্ধে এই অবস্থান নিয়েছেন। তবে আইনি প্রক্রিয়ায় বিধানসভা ভেঙে যাওয়ায় আপাতত বাংলায় তৃণমূল জমানার যবনিকা পড়ল।