বাবার পান দোকান, অদম্য জেদে বিচারক হলেন মেয়ে!
অভাবকে জয় করে বিচারক নিশি গুপ্তা: সাফল্যের এক অনন্য উপাখ্যান
নিজস্ব প্রতিবেদক: পানের দোকানের সামান্য আয়ে চলা অভাবী সংসার, সামাজিক রক্ষণশীলতা এবং নতুন বই কেনার সামর্থ্যটুকু না থাকা—এসব প্রতিকূলতাও নিশি গুপ্তার অদম্য ইচ্ছাশক্তির কাছে হার মানতে বাধ্য হয়েছে। সমস্ত বাধা পেরিয়ে আজ তিনি উত্তরপ্রদেশের মাহোবা জেলায় সিভিল জজ (জুনিয়র ডিভিশন) ও জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে কর্মরত।
কানপুরের এক যৌথ পরিবারে বেড়ে ওঠা নিশির যাত্রাপথ মোটেও সহজ ছিল না। সমাজের প্রচলিত ধারণা অনুযায়ী, দ্বাদশ শ্রেণির পরই মেয়েদের বিয়ে দেওয়ার চাপের মুখে পড়তে হয়েছিল তাঁকে। তবে পরিবারের আর্থিক অনটন আর সামাজিক কটূক্তি উপেক্ষা করে মেয়ের স্বপ্নকে গুরুত্ব দিয়েছিলেন তাঁর বাবা। সেই বাবার সমর্থনই নিশির জীবনের অন্যতম বড় শক্তি হয়ে ওঠে।
হিন্দি মাধ্যমের শিক্ষার্থী হওয়ায় আইন পড়ার শুরুতে ইংরেজি ভাষা ও আইনি পরিভাষা বুঝতে বেশ বেগ পেতে হয় তাঁকে। পরিবারের কেউ আইন পেশার সঙ্গে যুক্ত না থাকায় দীর্ঘ সময় একাই লড়াই চালিয়ে গেছেন তিনি। বই কেনার সামর্থ্য না থাকায় বড় বোনের পুরনো বই এবং নিজের পরিশ্রমের ওপর ভর করেই তিনি এলাহাবাদ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এলএলবি ও এলএলএম ডিগ্রি অর্জন করেন।
বিচারক হওয়ার স্বপ্ন পূরণ করতে গিয়ে অনেকবার ব্যর্থতার সম্মুখীন হয়েছেন নিশি। মধ্যপ্রদেশ ও রাজস্থানের পিসিএস-জে পরীক্ষায় মাত্র এক নম্বরের জন্য চূড়ান্ত পর্যায়ে ব্যর্থ হওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। তবে সেই ব্যর্থতাকে দুর্বলতা হিসেবে না দেখে তিনি নিজের প্রস্তুতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেন। তাঁর মতে, বিষয়বস্তু আত্মস্থ করা, নিয়মিত পুনরাবৃত্তি এবং উত্তরের উপস্থাপনাই ছিল তাঁর সাফল্যের চাবিকাঠি।
অবশেষে কঠোর পরিশ্রমের ফসল হিসেবে ২০২২ সালের উত্তরপ্রদেশ পিসিএস-জে পরীক্ষায় প্রথম স্থান অধিকার করেন নিশি গুপ্তা। কানপুরের সেই সাধারণ ঘরের মেয়ের এই সাফল্য প্রমাণ করেছে, দৃঢ় সংকল্প থাকলে অর্থনৈতিক দৈন্য বা সামাজিক প্রতিবন্ধকতা সাফল্যের পথে অন্তরায় হতে পারে না। বর্তমানে তিনি একাধারে নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছেন এবং প্রতিকূলতার সঙ্গে লড়াই করা অসংখ্য তরুণীর কাছে অনুপ্রেরণার প্রতীক হয়ে উঠেছেন।