ভাঙ্গড়ে মাঝরাতে পুলিশের ‘তাণ্ডব’! মদ্যপ অবস্থায় সাধারণ মানুষকে গালিগালাজ, পথ অবরোধে উত্তেজনা
ভাঙ্গড়: ৪ মে মহাগণনার ঠিক আগের রাতে রণক্ষেত্র দক্ষিণ ২৪ পরগনার ভাঙ্গড়। গভীর রাতে শোনপুকুর এলাকায় এক মদ্যপ পুলিশ কর্মীর ‘মাতলামো’ এবং সাধারণ মানুষকে হেনস্তা করার অভিযোগকে কেন্দ্র করে চরম উত্তেজনা ছড়াল। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে, উত্তেজিত জনতা ওই পুলিশ কর্মীকে ঘিরে ধরে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন, যার ফলে প্রায় এক ঘণ্টা অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে রাস্তা।
মদ্যপ অবস্থায় গালিগালাজ
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার রাত সাড়ে বারোটা থেকে একটা নাগাদ শোনপুকুর এলাকায় সাদা পোশাকে কর্তব্যরত এক পুলিশ কর্মী (কলকাতা পুলিশের ইউনিফর্মধারী বলে দাবি) রাস্তার মাঝখানে দাঁড়িয়ে গাড়ি আটকে তাণ্ডব শুরু করেন। অভিযোগ, তিনি মদ্যপ অবস্থায় ছিলেন এবং বিনা কারণে যাত্রীদের লক্ষ্য করে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করছিলেন। তাঁর পকেটে মদের বোতলও দেখা যায় বলে দাবি করেছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা।
জনতার স্বতঃস্ফূর্ত বিক্ষোভ
গাড়িতে থাকা যাত্রী এবং পথচারীরা পুলিশের এই অশালীন আচরণ দেখে ক্ষোভে ফেটে পড়েন। তাঁরা ওই পুলিশ কর্মীকে আটকে রেখে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন। যাত্রীদের অভিযোগ, অভিযুক্ত পুলিশ কর্মী নিজের নাম বা পরিচয় জানাতে অস্বীকার করছিলেন। তবে ঘটনাস্থলে উপস্থিত অন্যান্য পুলিশ কর্মীদের ভূমিকার প্রশংসা করেছেন স্থানীয়রা। তাঁদের বক্তব্য, বাকি পুলিশ কর্মীরা সক্রিয় না থাকলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারত এবং তাঁরাই সাধারণ মানুষকে ওই মদ্যপ কর্মীর হাত থেকে রক্ষা করেন।
পুলিশি তৎপরতা ও বর্তমান পরিস্থিতি
খবর পেয়ে ভাঙ্গড় থানার পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। অভিযুক্ত পুলিশ কর্মীকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। এই ঘটনার জেরে প্রায় এক ঘণ্টা যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকলেও, পুলিশি হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয় এবং পুনরায় গাড়ি চলাচল শুরু হয়। ভোটগণনার আগে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা পুলিশের এমন আচরণে জনমানসে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
প্রতিবেদক: স্বাধীন মানব দাস।