দুশ্চিন্তার মেঘ কাটিয়ে অভয়বাণী কেন্দ্রের, জ্বালানি ও গ্যাসের মজুত নিয়ে মুখ খুললেন রাজনাথ সিং
পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতির জেরে বিশ্বজুড়ে তৈরি হওয়া অস্থিরতার মধ্যে ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে বড়সড় আপডেট দিল কেন্দ্রীয় সরকার। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর দুশ্চিন্তা ও দেশবাসীকে জ্বালানি সাশ্রয়ের বার্তার পর সাধারণ মানুষের মনে যে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছিল, তা প্রশমিত করতে এগিয়ে এলেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং। সোমবার একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের পর তিনি স্পষ্ট করে দেন, বর্তমানে দেশে পর্যাপ্ত পরিমাণে পেট্রোপণ্য ও এলপিজি গ্যাস মজুত রয়েছে, তাই অযথা আতঙ্কিত হওয়ার কোনও কারণ নেই।
কত দিনের মজুত রয়েছে জ্বালানি?
প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক স্তরে তেলের বাজারে অনিশ্চয়তা থাকলেও ভারতের প্রস্তুতি মজবুত। তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ভারতের কাছে বর্তমানে নিম্নলিখিত পরিমাণে জ্বালানি মজুত রয়েছে:
- অপরিশোধিত তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস: ৬০ দিনের মজুত।
- এলপিজি (রান্নার গ্যাস): ৪৫ দিনের মজুত।
রাজনাথ সিং আশ্বাস দিয়ে বলেন, “দেশ নিরাপদ এবং কোনও পেট্রোলিয়াম পণ্যের ঘাটতি নেই।” যেখানে বিশ্বের বহু দেশ অভ্যন্তরীণ ব্যবহার কমাতে জরুরি অবস্থা জারি করছে, সেখানে ভারত সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপের মাধ্যমে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখছে বলে তিনি দাবি করেন।
আতঙ্ক নয়, প্রধানমন্ত্রীর আহ্বানে সাড়ার বার্তা
বৈঠক শেষে প্রতিরক্ষামন্ত্রী দেশবাসীকে শান্ত থাকার পরামর্শ দিয়ে জানান, অত্যাবশ্যকীয় পণ্যের সরবরাহ নিশ্চিত করতে সরকার নিরলস কাজ করছে। তবে এর পাশাপাশি তিনি প্রধানমন্ত্রীর সাশ্রয় নীতির গুরুত্বও মনে করিয়ে দেন। উল্লেখ্য, বিশ্ব সংকট মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ইতিপূর্বে দেশবাসীকে পেট্রোল-ডিজ়েল বাঁচাতে গণপরিবহণ ব্যবহার এবং প্রয়োজনে ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’ বা বাড়ি থেকে কাজ করার পরামর্শ দিয়েছিলেন। সোনার গয়না কেনার ক্ষেত্রেও সাময়িক বিরতি টানার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই সতর্কতামূলক পদক্ষেপগুলি আসলে দেশকে দীর্ঘমেয়াদী জ্বালানি নিরাপত্তা ও আত্মনির্ভরশীলতার পথে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার একটি কৌশল।