বিধানসভায় অর্জুন-মদন কোলাকুলি, তবে কি এবার গেরুয়া শিবিরে কামারহাটির বিধায়ক?

রাজ্য রাজনীতির সমীকরণ বদলের ইঙ্গিত দিয়ে বিধানসভার শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে তৈরি হলো এক নজিরবিহীন মুহূর্ত। তৃণমূল বিধায়ক মদন মিত্র ও বিজেপি বিধায়ক অর্জুন সিংয়ের সৌজন্য বিনিময় এবং আলিঙ্গনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে তীব্র জল্পনা শুরু হয়েছে। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক শত্রুতা সরিয়ে রেখে দুই নেতার এই ঘনিষ্ঠতা বঙ্গ রাজনীতিতে নতুন কোনো মেরুকরণের সংকেত কি না, তা নিয়ে চর্চা তুঙ্গে।

অর্জুনের দাবি ও মদনের নীরবতা

শপথ গ্রহণের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়েছিলেন মদন মিত্র। ঠিক সেই সময়ই সেখানে উপস্থিত হন নোয়াপাড়ার বিজেপি বিধায়ক অর্জুন সিং। মদন মিত্রকে আলিঙ্গন করে হাসিমুখে অর্জুন মন্তব্য করেন, মদনদা যেকোনো সময় বিজেপিতে চলে আসবে, ও লাভলি। অর্জুনের এই বিস্ফোরক মন্তব্যের বিপরীতে কোনো জোরালো প্রতিবাদ করেননি কামারহাটির বিধায়ক, বরং অর্জুনের কাঁধে হাত রেখে মৃদু হাসতে দেখা যায় তাঁকে। অতীতে একাধিকবার একে অপরকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করলেও বিধানসভার এই চিত্র ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন।

মদনের গলায় আক্ষেপের সুর

তৃণমূলের অন্দরে মদন মিত্রের অবস্থান নিয়ে গত কয়েকদিন ধরেই নানা গুঞ্জন শোনা যাচ্ছিল। এদিন সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি কিছুটা আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন। ২০১১ সালে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শপথ গ্রহণের পরিস্থিতির কথা স্মরণ করে তিনি আক্ষেপ প্রকাশ করেন যে, এবারের বিধানসভায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুপস্থিতি তাঁকে ব্যক্তিগতভাবে ব্যথিত করেছে। বাংলার রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে তৃণমূল নেত্রীকে ছাড়া বিধানসভার পরিবেশ নিয়ে তাঁর এই হতাশা দলের সঙ্গে তাঁর দূরত্ব বৃদ্ধির ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন অনেক বিশ্লেষক।

ভবিষ্যৎ প্রভাব ও জল্পনা

২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফলের পর রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে রাজনৈতিক পটপরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। রাজারহাট-নিউটাউনের মতো গুরুত্বপূর্ণ আসন হাতছাড়া হওয়া এবং উত্তরবঙ্গে বিজেপির দাপট তৃণমূলকে অস্বস্তিতে রেখেছে। এই পরিস্থিতিতে মদন মিত্রের মতো প্রভাবশালী নেতার বিজেপিতে যোগদানের জল্পনা যদি সত্য হয়, তবে তা শাসক শিবিরের জন্য বড় ধাক্কা হতে পারে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, অর্জুন সিংয়ের মন্তব্য নিছক রসিকতা নাকি সুপরিকল্পিত কোনো রাজনৈতিক চাল, তা আগামী কয়েক দিনেই স্পষ্ট হবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *