জিনপিং এক মহান নেতা, বেজিংয়ে চিনা প্রেসিডেন্টের প্রশংসায় পঞ্চমুখ ট্রাম্প
আমেরিকার রাষ্ট্রপতি ডোনাল্ড ট্রাম্পের চিন সফরকে কেন্দ্র করে বর্তমানে বিশ্ব রাজনীতিতে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। বেজিংয়ের ‘গ্রেট হল অব দ্য পিপল’-এ চিনা রাষ্ট্রপতি শি জিনপিংয়ের সঙ্গে এক সৌজন্য সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প চিনা নেতৃত্বের ভূয়সী প্রশংসা করেন। বৈঠকে জিনপিংকে একজন ‘মহান নেতা’ হিসেবে অভিহিত করে ট্রাম্প জানান, জিনপিংয়ের বন্ধু হতে পারা তাঁর কাছে অত্যন্ত গর্বের ও সম্মানের বিষয়। এই সফরে ট্রাম্প কেবল রাজনৈতিক কূটনীতিতেই সীমাবদ্ধ থাকেননি, বরং চিনা সামরিক বাহিনী এবং সে দেশের শিশুদের সাবলীল উপস্থিতিরও প্রশংসা করেছেন।
বন্ধুত্বের সমীকরণ ও দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের উন্নতি
বৈঠকে ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেন যে, শি জিনপিংয়ের সঙ্গে তাঁর দীর্ঘদিনের গভীর বন্ধুত্ব রয়েছে। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন জটিল সমস্যার সমাধানে তাঁরা একে অপরের ওপর নির্ভরশীল। ট্রাম্পের মতে, অতীতে যখনই কোনো বড় সংকট দেখা দিয়েছে, তখনই তাঁরা ফোনালাপের মাধ্যমে দ্রুত তার সমাধান খুঁজে বের করেছেন। মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই ইতিবাচক অবস্থান ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, আগামী দিনে চিন ও আমেরিকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছাতে পারে। বিশেষ করে বাণিজ্য ও বিনিয়োগের ক্ষেত্রে মার্কিন ব্যবসায়ীরা চিনে কাজ করতে আগ্রহী বলে তিনি উল্লেখ করেন।
আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে নতুন মোড়
বর্তমানে ইরান ও আমেরিকার মধ্যকার যুদ্ধকালীন উত্তেজনা এবং হরমুজ প্রণালী বন্ধ হওয়া নিয়ে বিশ্ব অর্থনীতি যখন সংকটের মুখে, তখন ট্রাম্পের এই চিন সফর অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। পাকিস্তান ও অন্যান্য দেশে একাধিক শান্তি বৈঠক ব্যর্থ হওয়ার পর সরাসরি বেজিংয়ে এসে ট্রাম্পের এই নরম সুর আন্তর্জাতিক মহলে বিশেষ চর্চার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বিশ্বজুড়ে চলা অস্থিরতা প্রশমনে এবং নতুন ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরি করতেই ট্রাম্প চিনকে পাশে পাওয়ার এই কৌশল অবলম্বন করেছেন। জিনপিংয়ের নেতৃত্বকে অকুণ্ঠ স্বীকৃতি দিয়ে ট্রাম্প মূলত আমেরিকার বাণিজ্যিক স্বার্থ এবং বৈশ্বিক স্থিতিশীলতার বার্তা দিতে চেয়েছেন।