বিধানসভা ভোটের ফলাফল নিয়ে আদালতে তৃণমূল, ৪০-৫০টি আসনে মামলার প্রস্তুতি

সদ্য সমাপ্ত বিধানসভা নির্বাচনে জনমতের সঠিক প্রতিফলন ঘটেনি—এই অভিযোগে এবার আইনি লড়াইয়ের পথে হাঁটল তৃণমূল কংগ্রেস। দলের সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে সুপ্রিম কোর্টে ইলেকশন পিটিশন দাখিলের তোড়জোড় শুরু করেছেন আইনজীবী-সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তৃণমূলের দাবি, অন্তত ১০০টি আসনে তাঁদের পরিকল্পিতভাবে হারানো হয়েছে। প্রাথমিক পর্যায়ে প্রায় ৪০ থেকে ৫০টি আসনে গণনায় কারচুপি ও অনিয়মের অভিযোগ তুলে আদালতের দ্বারস্থ হতে চলেছে ঘাসফুল শিবির।

গণনায় কারচুপি ও এজেন্টদের বের করে দেওয়ার অভিযোগ

সোমবার সুপ্রিম কোর্টে এসআইআর মামলার শুনানি শেষে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বিস্ফোরক অভিযোগ করেন। তাঁর দাবি, গণনাকেন্দ্রে সিসিটিভি ফুটেজ জনসমক্ষে আনা হয়নি এবং সংবাদমাধ্যমকেও প্রবেশে বাধা দেওয়া হয়েছে। কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগ, “যেখানে তৃণমূল ৪-৫ হাজার ভোটে এগিয়ে ছিল, সেখানে এজেন্টদের মেরে-ধরে বের করে দেওয়া হয়েছে। এমনকি খোদ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেও ধাক্কা দিয়ে বের করে দেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন তিনি।” তৃণমূলের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, যে আসনগুলিতে জয়ের ব্যবধান বিবেচনাধীন ভোটারের তুলনায় কম, সেই সব কেন্দ্রেই মূলত ইলেকশন পিটিশন দাখিল করা হবে।

রাজনৈতিক সংঘাত ও প্রত্যাবর্তনের ডাক

নির্বাচনের ফলাফল অনুযায়ী বিজেপি ২০৭টি আসন পেয়ে ক্ষমতায় এলেও তৃণমূলের দাবি, দুই দলের ভোটের ব্যবধান মাত্র ৩২ লক্ষের মতো। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পরাজয় এবং নন্দীগ্রাম ও ভবানীপুর কেন্দ্রের ফলাফল নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর মতে, ১৫-২০ হাজার ব্যবধানে জেতা আসনগুলোতে কারচুপির ঝুঁকি না নিলেও অল্প ব্যবধানের আসনগুলো ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে। বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সীমান্ত নীতি ও বিএসএফ-কে জমি হস্তান্তরের সিদ্ধান্তকে ‘নাটক’ বলে কটাক্ষ করেছেন তিনি। ১৫ বছর পর ক্ষমতাচ্যুত হলেও তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি, তাঁরা লড়াইয়ের ময়দান ছাড়ছেন না এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বেই পুনরায় ক্ষমতায় ফিরে আসবেন। একইসঙ্গে বাম-বিজেপি আঁতাতের অভিযোগ তুলে সিপিএম-কেও তীব্র আক্রমণ করেছেন শ্রীরামপুরের এই সাংসদ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *