নিট বাতিলের কবলে ২৩ লক্ষ পরীক্ষার্থী, প্রশ্ন ফাঁসের তদন্তে নামছে সিবিআই
মেডিক্যাল প্রবেশিকা পরীক্ষা নিট-ইউজি (NEET-UG) ঘিরে দানা বাঁধা চরম অনিশ্চয়তার অবসান ঘটিয়ে বড় সিদ্ধান্ত নিল ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি (এনটিএ)। গত ৩ মে অনুষ্ঠিত দেশজুড়ে হওয়া এই বড় পরীক্ষাটি আনুষ্ঠানিকভাবে বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে। প্রশ্ন ফাঁসের গুরুতর অভিযোগ এবং রাজনৈতিক মহলের তীব্র চাপের মুখে পড়ে অবশেষে এই কড়া পদক্ষেপ নিল কর্তৃপক্ষ। পুরো ঘটনার নেপথ্যে থাকা চক্রকে খুঁজে বের করতে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআইকে।
প্রশ্ন ফাঁসের চাঞ্চল্যকর উৎস
গত ৩ মে দেশজুড়ে প্রায় ২৩ লক্ষ পরীক্ষার্থী ডাক্তারির এই প্রবেশিকায় অংশ নিয়েছিলেন। কিন্তু পরীক্ষার পরেই রাজস্থানসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রশ্ন ফাঁসের সুনির্দিষ্ট তথ্য সামনে আসতে শুরু করে। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, পরীক্ষার অন্তত এক মাস আগে একটি সম্ভাব্য প্রশ্নপত্র নির্দিষ্ট কিছু পড়ুয়ার হাতে পৌঁছে গিয়েছিল। রাজস্থান পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ওই প্রশ্নপত্রের কয়েকশ প্রশ্নের মধ্যে ১২০টি রসায়ন প্রশ্ন এবং সেগুলোর উত্তরের অপশন মূল প্রশ্নপত্রের সঙ্গে হুবহু মিলে গেছে। কোনো কোনো সূত্রের দাবি, এই মিলের হার আরও ভয়াবহ। গত ২০২৪ সালের নিট কেলেঙ্কারির স্মৃতি উসকে দিয়ে লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী ও আপ সুপ্রিমো অরবিন্দ কেজরিওয়াল কেন্দ্রীয় সরকারের ভূমিকার কড়া সমালোচনা করেন। এর পরেই স্বচ্ছতা বজায় রাখতে পরীক্ষা বাতিলের পথে হাঁটে এনটিএ।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও পরীক্ষার্থীদের করণীয়
পরীক্ষা বাতিল হওয়ায় পরীক্ষার্থীদের মধ্যে উৎকণ্ঠা বাড়লেও এনটিএ জানিয়েছে, নতুন করে পরীক্ষা দেওয়ার জন্য পড়ুয়াদের আর কোনো আবেদন ফি দিতে হবে না। আগের জমা করা অর্থও ফেরত দেওয়া হবে বলে আশ্বাস মিলেছে। শীঘ্রই নতুন অ্যাডমিট কার্ড প্রকাশ করা হবে এবং তার ভিত্তিতেই নেওয়া হবে পুনরায় পরীক্ষা। তবে ঠিক কোন তারিখে এই পরীক্ষা আবার আয়োজিত হবে, সে বিষয়ে এনটিএ এখনও কোনো নির্দিষ্ট দিনক্ষণ ঘোষণা করেনি। পরীক্ষার্থীদের নিয়মিত অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে নজর রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সিবিআই তদন্তের মাধ্যমে এই জালিয়াতির মূল পাণ্ডাদের চিহ্নিত করা এবং মেধার সুরক্ষা নিশ্চিত করাই এখন প্রশাসনের কাছে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।