এক ঘোষণাতেই বদলে গেল বাজার! সোনা-রুপো কেনা কি এবার মধ্যবিত্তের নাগালের বাইরে?

দেশের বিদেশি মুদ্রার রিজার্ভ রক্ষা এবং ক্রমবর্ধমান বাণিজ্য ঘাটতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সোনা ও রুপোর ওপর আমদানি শুল্ক এক ধাক্কায় দ্বিগুণেরও বেশি বাড়াল কেন্দ্র। বুধবার সরকারের জারি করা এক নির্দেশিকা অনুযায়ী, সোনা ও রুপোর কার্যকর আমদানি শুল্ক ৬ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১৫ শতাংশ করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর সংযম বার্তার রেশ কাটতে না কাটতেই এই সিদ্ধান্তের ফলে দেশের বাজারে মূল্যবান দুই ধাতুর দাম অনেকটা চড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

শুল্ক কাঠামোর বড় বদল

নতুন সরকারি নির্দেশিকা অনুযায়ী, এখন থেকে সোনা ও রুপো আমদানির ক্ষেত্রে ১০ শতাংশ বেসিক কাস্টমস ডিউটি এবং ৫ শতাংশ এগ্রিকালচার ইনফ্রাস্ট্রাকচার অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট সেস (AIDC) দিতে হবে। এই দুইয়ের সমন্বয়ে মোট শুল্কের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৫ শতাংশ। এর আগে এই হার ছিল মাত্র ৬ শতাংশ। মূলত আমদানিতে লাগাম টানতেই এই কড়া পদক্ষেপ নিয়েছে অর্থ মন্ত্রক।

কেন এই কড়াকড়ি?

বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম সোনা ব্যবহারকারী দেশ হিসেবে ভারতের চাহিদার প্রায় পুরোটাই আমদানির ওপর নির্ভরশীল। সম্প্রতি শেয়ার বাজারে অস্থিরতার কারণে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে সোনার প্রতি ঝোঁক বেড়েছে আমজনতার। ওয়ার্ল্ড গোল্ড কাউন্সিলের তথ্যমতে, গত মার্চ পর্যন্ত গোল্ড ইটিএফ-এ বিনিয়োগ ১৮৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলে সোনা আমদানিতে বিপুল পরিমাণ বিদেশি মুদ্রা দেশের বাইরে চলে যাচ্ছে। এই চাপ সামাল দিতেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সম্প্রতি দেশবাসীকে সোনা কেনায় রাশ টানার পরামর্শ দিয়েছিলেন। সরকার চাইছে আমদানির পরিমাণ কমিয়ে রাজকোষের ঘাটতি মেটাতে।

শিল্পমহলে চোরাচালানের আশঙ্কা

শুল্ক বৃদ্ধির এই সিদ্ধান্ত ঘিরে জুয়েলারি শিল্পে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, আকাশছোঁয়া দামের ওপর অতিরিক্ত শুল্কের বোঝা চাপায় বাজারে চাহিদাও তলানিতে ঠেকতে পারে। ইন্ডিয়া বুলিয়ন অ্যান্ড জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশনের মতে, দাম অত্যধিক বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ ক্রেতারা সোনা কেনা থেকে মুখ ফিরিয়ে নিতে পারেন। পাশাপাশি বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন যে, আইনি পথে শুল্ক বাড়লে দেশে অবৈধ পথে সোনা বা রুপো আনার প্রবণতা তথা চোরাচালান বৃদ্ধি পেতে পারে। বৈধ ও অবৈধ পথের মূল্যের বড় ফারাক গ্রে মার্কেটকে ফের সক্রিয় করে তোলার সম্ভাবনা তৈরি করেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *