বারোটায় অফিস আর চারটেয় ছুটি নয়, কর্মসংস্কৃতি ফেরাতে কড়া দাওয়াই শুভেন্দু সরকারের!
রাজ্যের সরকারি দফতরগুলোতে দীর্ঘদিনের ‘শিলথ’ কর্মসংস্কৃতি ঝেড়ে ফেলতে এবার কোমর বেঁধে নেমেছে নতুন বিজেপি সরকার। নচিকেতার গানের সেই পরিচিত ‘বারোটায় অফিস, চারটেয় ছুটি’র দিন শেষ করে কর্মীদের সময়ানুবর্তিতা ফেরাতে অত্যন্ত কঠোর নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। মঙ্গলবার রাইটার্স বিল্ডিংয়ের বিচার বিভাগীয় দফতর থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, এখন থেকে বিলাসিতার কোনো জায়গা নেই; সরকারি কর্মীদের অফিসে ঢোকা এবং বেরোনোর নির্দিষ্ট সময়সীমা অক্ষরে অক্ষরে পালন করতে হবে।
আটসাট প্রশাসনিক নিয়ম ও সময়ানুবর্তিতা
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন নব্য সরকার ২০০০ সালের অর্থ দফতরের একটি পুরনো নির্দেশিকাকে হাতিয়ার করে প্রশাসনের ভোল বদলে দিতে চাইছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, প্রতিটি কাজের দিন সকাল ১০টা ১৫ মিনিটের মধ্যে সরকারি কর্মীদের হাজিরা নিশ্চিত করতে হবে। একইভাবে, কাজ শেষ করে বিকেল ৫টা ১৫ মিনিটের আগে কোনোভাবেই অফিস চত্বর ত্যাগ করা যাবে না। মূলত সরকারি পরিষেবাকে আরও গতিশীল ও জনমুখী করতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করে দিয়েছেন, তাঁর সরকার হবে ‘জনগণের সরকার’, যেখানে জনস্বার্থই হবে শেষ কথা।
পুনর্নিয়োগ ছাঁটাই ও প্রশাসনিক সংস্কার
প্রশাসনিক সংস্কারের লক্ষ্যে শুধুমাত্র সময়ানুবর্তিতা নয়, নবান্নের পক্ষ থেকে আরও একটি বড় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। গত এক দশকে ৬০ বছর বয়স পার হওয়ার পর যে সমস্ত আধিকারিককে বিগত তৃণমূল সরকার পুনর্নিয়োগ করেছিল, তাঁদের একযোগে অব্যাহতি দেওয়া হচ্ছে। প্রকাশিত ২৩২ জনের এই তালিকায় অর্থ, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও ভূমির মতো গুরুত্বপূর্ণ দফতরের আইএএস, আইপিএস এবং ডব্লিউবিসিএস আধিকারিকরা রয়েছেন। একইসঙ্গে প্রচার থেকে ‘মুখ্যমন্ত্রীর অনুপ্রেরণা’ শব্দবন্ধটি সরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দিয়ে প্রশাসনকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত করার বার্তাও দিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী।
প্রভাব ও পরিবর্তনের লক্ষ্য
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই জোড়া পদক্ষেপের ফলে রাজ্যের প্রশাসনিক জট কাটবে এবং নিচুতলার আমলাতন্ত্রে তারুণ্যের সঞ্চার হবে। পুনর্নিয়োগ বাতিল করার মাধ্যমে যেমন অভিজ্ঞতার বোঝা কমানো হচ্ছে, তেমনই সময়ানুবর্তিতার কড়াকড়িতে সাধারণ মানুষের সরকারি পরিষেবা পাওয়ার পথ সুগম হবে। নবান্ন নয়, বরং ঐতিহ্যবাহী রাইটার্স বিল্ডিং থেকেই এখন রাজ্য পরিচালনার মূল কাজ শুরু হয়েছে, যা রাজ্যের প্রশাসনিক কাঠামোয় এক আমূল পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।