বিয়ের স্মৃতিতে নতুনত্বের ছোঁয়া, বাড়ছে ‘ওয়েডিং পেন্টিং’-এর জনপ্রিয়তা

ক্যামেরা ও স্মার্টফোনের যুগে বিয়ের স্মৃতি ধরে রাখতে এখন কেবল ভিডিও বা ছবিতেই সীমাবদ্ধ থাকছেন না আধুনিক দম্পতিরা। লেন্সের কারসাজির ভিড়ে আভিজাত্য ফেরাতে ছাঁদনাতলায় জায়গা করে নিচ্ছে ক্যানভাস ও রং-তুলি। ১৭শ বা ১৮শ শতকের ইউরোপীয় ঘরানার এই ‘ওয়েডিং পেন্টিং’ সংস্কৃতি এখন ভারতের বড় শহরগুলোর গণ্ডি পেরিয়ে খাস কলকাতাতেও ট্রেন্ড হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিয়ের মণ্ডপের এক কোণে বসে দক্ষ শিল্পীর হাতের ছোঁয়ায় জীবন্ত হয়ে উঠছে মালাবদল বা সিঁদুরদানের মতো বিশেষ মুহূর্তগুলো।

পুরনো ঐতিহ্যের আধুনিক প্রত্যাবর্তন

এক সময় ক্যামেরা যখন ছিল না, তখন রাজা-মহারাজা বা উচ্চবিত্ত পরিবারে বিয়ের মুহূর্ত ধরে রাখতে চিত্রশিল্পীদের ডাক পড়ত। মাঝের কয়েক দশকে সেই জায়গা নিয়েছিল ফটোগ্রাফি ও ভিডিওগ্রাফি। তবে ২০২৬ সালের বিয়ের মরসুমে দেখা যাচ্ছে উল্টো ছবি। শৈল্পিক আভিজাত্য আর নতুনত্বের টানে হবু দম্পতিরা এখন ওয়েডিং পেন্টারদের ওপর ভরসা রাখছেন। কলকাতা ও আশপাশের এলাকায় শুভশ্রী চক্রবর্তী বা রনি বিশ্বাসের মতো তরুণ শিল্পীরা এই কাজ শুরু করেছেন। মূলত শিল্পের প্রতি অনুরাগ এবং বিয়েতে আলাদা চমক সৃষ্টির তাগিদ থেকেই এই বিশেষ সংস্কৃতির পুনরুত্থান ঘটছে।

ক্যানভাসে মুহূর্ত তৈরির প্রক্রিয়া ও খরচ

লাইভ ওয়েডিং পেন্টিংয়ের জন্য শিল্পীকে বিয়ের অন্তত ৫-৬ ঘণ্টা আগে মণ্ডপে পৌঁছাতে হয়। আগে থেকেই বর-বধূর পোশাকের রং, সাজগোজ এবং মণ্ডপসজ্জার খুঁটিনাটি জেনে নিয়ে প্রাথমিক খসড়া তৈরি করে রাখা হয়। শুভদৃষ্টি বা সিঁদুরদানের মতো মূল মুহূর্তটি শুরু হতেই তুলির টানে ফুটে ওঠে নিখুঁত অবয়ব। একটি ১৬/২০ ইঞ্চির ক্যানভাসে বর-কনের ছবি ফুটিয়ে তুলতে বর্তমান বাজারে ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা খরচ পড়ছে। তবে ছবিতে মানুষের সংখ্যা বা ক্যানভাসের আকার বাড়লে এই বাজেট আরও বৃদ্ধি পায়।

স্মৃতির অ্যালবামে নতুন মাত্রা

বিয়ের ডিজিটাল অ্যালবাম বা ভিডিওর গুরুত্ব না কমলেও, ড্রয়িং রুমের দেয়ালে টাঙানো হাতে আঁকা ছবিটির আবেদন সম্পূর্ণ আলাদা। অনেক দম্পতির মতে, মেহন্দি বা সংগীতের মতো ওয়েডিং পেন্টিং এখন বিয়ের বাজেটের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠছে। একদিকে যেমন এটি বিয়েবাড়িতে আসা অতিথিদের মধ্যে বাড়তি কৌতূহল তৈরি করছে, অন্যদিকে শিল্পীদের জন্য তৈরি হচ্ছে আয়ের নতুন সুযোগ। যান্ত্রিক লেন্সের বদলে তুলির টানে ধরা থাকা আবেগই এখন আগামীর বিয়ের মরসুমগুলোতে মূল আকর্ষণ হতে চলেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *