মেয়াদ শেষের আগেই পদত্যাগ করলেন লীনা গঙ্গোপাধ্যায়! বড় পদক্ষেপ রাজ্য মহিলা কমিশনে

পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক পালাবদলের ঢেউ আছড়ে পড়ল রাজ্য মহিলা কমিশনেও। নির্ধারিত মেয়াদ শেষের আগেই চেয়ারপার্সন পদ থেকে ইস্তফা দিলেন প্রখ্যাত চিত্রনাট্যকার ও লেখক লীনা গঙ্গোপাধ্যায়। তৃণমূল কংগ্রেস ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত এই ব্যক্তিত্ব ২০২৩ সালের জুলাই মাসে এই গুরুত্বপূর্ণ পদের দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন। ২০২৬ সালের জুলাই মাসে তাঁর মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও রাজ্যে নতুন সরকার গঠিত হতেই তিনি সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিলেন। বিশেষ করে অগ্নিমিত্রা পাল নারী ও শিশুকল্যাণ মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর লীনার এই পদত্যাগ প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক মহলে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

বিতর্ক ও রাহুলের মৃত্যু নিয়ে অস্থিরতা

লীনা গঙ্গোপাধ্যায়ের ইস্তফার প্রেক্ষাপট অবশ্য গত দেড় মাস ধরেই তৈরি হচ্ছিল। অভিনেতা রাহুল বন্দ্যোপাধ্যায়ের রহস্যজনক মৃত্যু ঘিরে টলিউড এবং সাধারণ মানুষের একাংশের ক্ষোভের মুখে পড়েছিলেন তিনি। গত ২৯ মার্চ ওড়িশার তালসারিতে শুটিং চলাকালীন সমুদ্রে ডুবে রাহুলের মৃত্যু নিয়ে অভিযোগ ওঠে লীনার প্রযোজনা সংস্থার বিরুদ্ধে। রাহুলের স্ত্রী প্রিয়াঙ্কা সরকার অভিযোগ দায়ের করার পর তদন্তে স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এবং প্রভাব খাটানোর অপবাদ এড়াতে সেই সময়ই তিনি পদ ছাড়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন। যদিও শেষ পর্যন্ত তখন পদত্যাগ না করলেও ক্ষমতার পটপরিবর্তন হওয়া মাত্রই তিনি নিজের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি নিলেন।

প্রশাসনিক প্রভাব ও পরিবর্তনের ইঙ্গিত

তৃণমূল জমানার একাধিক ঘটনায় অভিযোগ ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টার যে অপবাদ তাঁর ওপর বারবার উঠেছে, এই ইস্তফায় তার কিছুটা সমাপ্তি ঘটতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, সরকার পরিবর্তনের পর কমিশনের শীর্ষ পদে আমূল রদবদল হওয়া স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। লীনা গঙ্গোপাধ্যায়ের সরে যাওয়া মূলত নতুন রাজনৈতিক পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার একটি অংশ। এর ফলে রাজ্য মহিলা কমিশনের কার্যপ্রণালীতে বড় ধরনের প্রশাসনিক রদবদলের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, যা আগামী দিনে নারী সুরক্ষা ও অধিকার রক্ষার লড়াইয়ে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *